আফগানিস্তানে সরকারি কর্মচারীদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নির্দেশনার পর ১৭ জুন থেকে সামরিক ও বেসামরিক সব সরকারি কর্মচারীর জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আফগান সুপ্রিম কোর্টের প্রতীকসংবলিত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের সব প্রাদেশিক বিভাগের প্রধানদের নিজ নিজ দপ্তরের উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, ১৭ জুন থেকে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে স্মার্টফোন ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
আরও পড়ুন:জেনেভা, ১৯ জুন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে যে শান্তি সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তা আপাতত থমকে গেছে। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার নির্ধারিত ওই বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। এই স্থগিতাদেশের সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে গেছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফরের পরিকল্পনাও। ফলে যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির আশা করা হচ্ছিল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সুইস কর্তৃপক্ষ বলছে, আলোচনা পেছালেও তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে সরে যাচ্ছে না। বুর্গেনস্টকে প্রয়োজনীয় আয়োজন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে উপযুক্ত সময়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে ইরান এখনো এই বিষয়ে মুখ খোলেনি। দেশটি কিছুদিন আগে জানিয়েছিল, চৌদ্দ দফা সমঝোতার পর অন্তত দুই মাসের নাজুক যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা গেলে তারা কারিগরি স্তরের বৈঠকে বসতে রাজি। এর আগের বৃহস্পতিবার দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান একটি সমঝোতা স্মারকে ভার্চুয়ালি স্বাক্ষর করেছিলেন, যাতে সরাসরি মুখোমুখি বসার প্রয়োজন হয়নি। এরপর জেনেভায় চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর কথা ছিল, যেখানে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। দুই মাসব্যাপী এই প্রক্রিয়ার প্রথম দিনেই উপস্থিত থাকার কথা ছিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের। **সম্ভাব্য শিরোনাম:** 1. যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সংলাপ থমকে গেল, ভ্যান্সের সফরও বাতিল 2. জেনেভায় হচ্ছে না বৈঠক, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা স্থগিত 3. সুইস ঘোষণা: তেহরান-ওয়াশিংটন শান্তি বৈঠক পেছাল 4. ভ্যান্সের সফর বাতিল, যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা 5. পরমাণু আলোচনার আগেই জটিলতা, স্থগিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মচারী এই নির্দেশনার আওতায় থাকবেন। তবে বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে কেবল আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা এই নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখবেন।
এ বিষয়ে আফগান সরকারের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি দপ্তরগুলোতে স্মার্টফোনের পরিবর্তে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা। তবে নিষেধাজ্ঞার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।