প্রতিমন্ত্রীর সন্তানদের নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিতর্কের মুখে পড়া বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের নাম বদলে যাচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে এ বিষয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলা প্রশাসন।
কিছুদিন আগে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক সীমানা নতুন করে গঠন করা হয়। এর ফলে চারটি নতুন ইউনিয়ন তৈরি হয়, যার মধ্যে দুটি মোকামতলা উপজেলায় অবস্থিত একটি ইউনিয়নের নাম স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলের নামের সঙ্গে এবং অন্যটি তার ছোট ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যায়। ঘোষণার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলে এই নামকরণ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।
অনেকেই অভিযোগ করেন, পরিবারের সদস্যদের নামের সাদৃশ্য রেখে পরিকল্পিতভাবে এই নামকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিবগঞ্জ উপজেলায় গঠিত একটি নতুন ইউনিয়নের নামও সেই প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের পৈতৃক বাড়ির নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় উঠে আসে। বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী সংসদে নিজের ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হন। তিনি দাবি করেন, এই নামকরণের প্রস্তাব এসেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এবং এতে তার সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে এই ব্যাখ্যায় বিতর্ক থামেনি, বরং তা সারা দেশে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়।
ধারাবাহিক সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ আসে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিতর্কিত দুটি ইউনিয়নের নাম বদলানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন নাম নির্ধারণের আগে স্থানীয় মানুষের মতামত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর পাশাপাশি গত সপ্তাহেই নতুন গঠিত চারটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের তথ্যও নিশ্চিত করেছিল জেলা প্রশাসন। নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এই প্রশাসনিক বিতর্কের অবসান হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
