বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

ভারতে কালাজাদুর নামে মা ও শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ‘কালাজাদু’ চর্চার অভিযোগে এক নারী ও তার ১০ মাসের শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত নারীর স্বামী গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে ধরতে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

মঙ্গলবার রাতে ঝাড়খণ্ডের কুদসাই নামের প্রত্যন্ত একটি আদিবাসী গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামে প্রায় ৫০টি কাঁচা ঘর রয়েছে। নিহত নারী জ্যোতি সিনকু ও তার শিশুপুত্রকে ঘরে ঢুকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয় বলে অভিযোগ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় এক ব্যক্তি পুস্তুন বিরুয়ার অসুস্থতা ও গবাদিপশুর আকস্মিক মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে গ্রামে উত্তেজনা ছড়ায়।

বিরুয়ার স্ত্রী জানো বিরুয়া বলেন, স্বামী অসুস্থ হওয়ার পর একজন গ্রাম্য স্বাস্থ্য সেবাদাতার কাছে যান। সেখানে বলা হয়, তার স্বামী শারীরিক কোনো রোগে ভুগছেন না।

বিরুয়ার স্ত্রী বলেন, আমরা গরিব মানুষ, দূরের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এর মধ্যেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে জ্যোতি সিনকু ‘কালাজাদু’ চর্চা করেন এবং পুস্তুন বিরুয়ার অসুস্থতার জন্য দায়ী।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুস্তুন বিরুয়ার মৃত্যু হয়। সেই রাতেই প্রায় ডজনখানেক লোক, যাদের মধ্যে পাঁচজন নারীও ছিলেন, জ্যোতির বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ।

এদিকে হাসপাতালে দগ্ধ জ্যোতির স্বামী কোলহান সিনকু বলেন, আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করেছিলাম বিষয়টি গ্রামসভায় মীমাংসা করতে, কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি।

কোলহান সিনকু ও পরিবারের আরেক সদস্যের জবানবন্দির ভিত্তিতে জেলা পুলিশ হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করেছে।

ভারতের জাতীয় অপরাধ নথি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতে ‘কালাজাদু’ চর্চা করতে গিয়ে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যাদের অধিকাংশই নারী। গত কয়েক মাস আগেই পার্শ্ববর্তী বিহার রাজ্যে একই অভিযোগে একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা ও পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা সাধারণত প্রান্তিক আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বেশি ঘটে, যেখানে কুসংস্কার প্রবল এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে মানুষ ভুয়া চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল।

ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং গ্রামাঞ্চলে কুসংস্কারবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করা হবে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...