ইসলাম একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বভাবজাত ধর্ম। মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য, সুস্থতা এবং পবিত্রতা রক্ষায় ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শরীরের অবাঞ্ছিত লোম ও নখ কাটার সঙ্গে রোজার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
সময়সীমা ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, বগলের লোম, নাভির নিচের লোম এবং নখ কাটার জন্য সর্বোচ্চ ৪০ দিন সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো ওজর বা কারণ ছাড়া এর চেয়ে বেশি সময় এগুলো বড় রাখা মাকরূহ তাহরীমি বা গুনাহর কাজ। সাহাবি আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, আমাদের জন্য গোঁফ ছোট রাখা, নখ কাটা এবং অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কারের ক্ষেত্রে ৪০ দিনের বেশি দেরি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে (সহিহ মুসলিম: ২৫৮)।
রোজা থাকা অবস্থায় লোম কাটার বিধান
রোজা ভঙ্গের মূল কারণ হলো পানাহার এবং যৌনসম্ভোগ। রোজা রেখে নখ কাটা, চুল ছাঁটা বা শরীরের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। অনেকেই মনে করেন এতে ইবাদত কবুল হয় না, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বরং শরীর পরিচ্ছন্ন রাখা ইবাদতেরই অংশ।
লোম পরিষ্কারের পদ্ধতি
* পদ্ধতি: ব্লেড, ক্ষুর, কাঁচি বা হেয়ার রিমুভার ক্রিম ব্যবহার করে লোম পরিষ্কার করা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য জায়েজ।
* মুস্তাহাব আমল: তবে পুরুষের জন্য চেঁছে ফেলা এবং নারীদের জন্য উপড়িয়ে ফেলা মুস্তাহাব বা উত্তম। (সূত্র: কিতাবুল ফিকহ আ’লাল মাযাহিবিল আরবাআ’)।
প্রয়োজনীয় কিছু সতর্কতা
* অবাঞ্ছিত লোম কাটার পর গোসল করা ফরজ হয় না, স্বাভাবিক অজু বা ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট।
* রোজা থাকা অবস্থায় শরীরের যেকোনো অংশের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা সম্পূর্ণ বৈধ এবং বিশুদ্ধ মতানুসারে এতে সিয়ামের কোনো ত্রুটি হয় না।
সারকথা: পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। তাই রোজা রাখা অবস্থায় পরিচ্ছন্নতার খাতিরে নখ বা লোম কাটলে রোজার কোনো সমস্যা হবে না, বরং এটি একটি প্রশংসনীয় কাজ।
