শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

ইসলামে স্বাবলম্বী হওয়ার তাগিদ

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন

আল্লাহ মুমিনদের জীবিকা বা ধন অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। মুমিনদের দুনিয়াবিমুখ হওয়ার জন্য বলেননি। পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা, ‘তোমরা নামাজ পড়েই আল্লাহর অনুগ্রহ খুঁজতে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড় (সুরা জুমআ আয়াত ৩০)।’ নিঃসন্দেহে রিজিকের মালিক আল্লাহ। আল্লাহ এজন্য বান্দাদের তাঁর অনুগ্রহ খুঁজতে বলেছেন। অলসভাবে বসে থাকতে বলেননি। পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড় বাক্যের ভাবার্থ জীবিকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো। যারা এ ব্যাপারে মনোযোগী নন, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হবেন এমনটিই স্বাভাবিক।

পবিত্র কোরআনে জাকাত দিতে বলা হয়েছে, (সুরা বাকারা, আয়াত ৪৩) নিতে বলা হয়নি। এর দ্বারা আল্লাহপাক আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সামর্থ্যবান হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। লক্ষণীয় যে কোরআন হাদিসে কোথাও বলা হয়নি যে জাকাত গ্রহণ করলে সওয়াব হয়, বরং সর্বত্রই বলা হয়েছে জাকাত প্রদান করলে সওয়াব হয়। এরপরও  সম্পদ উপার্জন বা স্বাবলম্বী না হওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। দুনিয়াবিমুখ ধর্মীয় দর্শনে প্রভাবিত হয়ে আমরা রসুল (সা.)-এর সেই হাদিস পড়ি যে একজন গরিব মানুষ ধনীদের তুলনায় ৫০০ বছর আগে জান্নাতে যাবে; (তিরমিজি, ২৩৫২) অথচ অন্য হাদিস পড়ি না, যেখানে রসুল (সা.) বলেছেন, একজন শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম। ‘শক্তিশালী মুমিন’ বলতে শুধু শারীরিক শক্তি নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার অবস্থাকেও বোঝানো হয়েছে। অন্য হাদিসে এসেছে, রসুল (সা.) বলেছেন; ‘উপরের হাত, নিচের হাত অপেক্ষা উত্তম।’ (বুখারি, ১৪২৭) অর্থাৎ যে ব্যক্তি দান করে তার হাত উপরে থাকে, আর যে ব্যক্তি দান গ্রহণ করে, তার হাত নিচে থাকে অর্থাৎ হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী যার হাত উপরে থাকে সেই উত্তম।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বান্দাকে তার সম্পদ অভাবীদের জন্য ব্যয় করতে বলেছেন, কোথাও দান গ্রহণ করতে বলেননি। আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘যারা আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করে, নামাজ কায়েম করে এবং আল্লাহর দেওয়া সম্পদ ব্যয় করে, তারা মুমিন (সুরা বাকারা, আয়াত ৩)।’

মানুষ অভাবী হলে তাকে বিপথগামী করা সহজ। সে তার বিপদাপন্ন স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর সামর্থ্য রাখে না। পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রয়োজনে অর্থ ব্যয় করার সুযোগ পায় না। ইসলামে যারা গরিব, যারা অভাবী তাদের অবজ্ঞা করা হয়নি, কিন্তু গরিব হওয়া উত্তম এমন নির্দেশনা কোথাও বলা হয়নি। আমরা আমাদের সামাজিক অবস্থার দিকে তাকালে কী দেখি? ধরা যাক হৃষ্টপুষ্ট এবং দৈহিকভাবে শক্তিশালী এমন কোনো অপরাধীকে, আর্থিকভাবে শক্তিশালী দুর্বল দেহের সমাজপতির সামনে ধরে নিয়ে আসা হলে, অপরাধী ঠিকই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। এমনকি তার মধ্যে থরথর কম্পন সৃষ্টি হবে। ওই দৈহিক শক্তিহীন অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির দয়া পেতে অনুনয় বিনয় করবে। যৌক্তিকভাবে বলা যায়, হাদিসে শক্তিশালী মুমিন বলতে আর্থিকভাবে শক্তিশালী মুমিনের কথা বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাঁর বান্দার কল্যাণ চান। বান্দা আর্থিকভাবে দুর্বল থাকবে তা আল্লাহর কাছে কাম্য নয়। কাম্য হলে নামাজ আদায়ের পরপরই আল্লাহর অনুগ্রহ পেতে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো না।

কথাগুলো হৃদয়ঙ্গম করতে হবে গভীরভাবে। আল্লাহকে বিশ্বাস করা এবং নামাজ কায়েম করার পরপরই আয়াতের শেষাংশে এ কথা বলার কারণ কী, ‘যেই সম্পদ আমি তাদের দিয়েছি, যারা তা থেকে ব্যয় করে, তারা মুমিন।’ তার মানে হচ্ছে, এ কথাটিও ইমানের অনুষঙ্গ। আল্লাহকে বিশ্বাস করা, নামাজ কায়েম করা এবং ব্যয় করা, এগুলো ইমানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইমানের একাধিক শাখাপ্রশাখা রয়েছে। যে ব্যক্তির মধ্যে সব শাখাই বিদ্যমান, সেই খাঁটি মুমিন। এর মধ্যে মুমিনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহপাক তাকে যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় করবে। অতএব উক্ত আয়াত থেকে প্রতীয়মান হলো, মুমিন হতে গেলে আল্লাহর দেওয়া অর্থসম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করতে হবে। অর্থ ব্যয় করলে তবেই ইমানের এই অংশটা পূর্ণ হবে।

এখন যদি কেউ মনে করে আল্লাহকে বিশ্বাস করব, নামাজ পড়ব, রোজা রাখব, হজ আদায় করব কিন্তু সম্পদ ব্যয় করব না। তারপরও সে মুমিন না তা নয়, তবে ইমানদারের বৈশিষ্ট্যসমূহের একটা বৈশিষ্ট্যহীনতা তার মাঝে বিদ্যমান, যে কারণে এই অংশের বিবেচনায় তার ইমানটা অপূর্ণ রয়ে গেল। খাঁটি মুমিন হতে হলে অবশ্যই তাকে সম্পদ আয় এবং ব্যয় শিখতে হবে।

নামাজ পড়েই আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তার অনুগ্রহ অর্থাৎ জীবিকা অন্নেষণে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়তে হবে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...