মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
Logo
×

একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তি শান্তিতে থাকতে দিতে চায় না: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

Icon প্রথম সমাচার ডেস্ক

একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তি সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকুক, তা চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, পরাজিত শক্তিগুলো যাতে নতুন করে সমাজকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

মঙ্গলবার যশোরের বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মসজিদ-মন্দির সব সময় রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। ধর্মকে পুঁজি করে কেউ যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনও দায়িত্ব পালন করছে। তবে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে সবাই যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করলে নিজ নিজ এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে দুর্বল বা সবল ভাবার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যশোরের মাটিতে তাঁর সন্তানের যে অধিকার, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্তানদেরও একই অধিকার রয়েছে। কে হিন্দু, কে মুসলিম কিংবা কে সমতলে বা পাহাড়ে বসবাস করেন, সেটি বিবেচ্য নয়। মানুষকে মানুষ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি কখনো হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে বিভেদে বিশ্বাস করে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া তাঁদের সেই শিক্ষা দিয়েছেন। সেই শিক্ষা অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈষম্যহীনভাবে মসজিদ-মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়ন করছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে কাজ করছেন। সেখানে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা হবে না। তাদের রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় বিবেচনা না করে নির্মূল করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ সফল করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

যশোরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি করোনারি কেয়ার ইউনিটের উন্নয়নকাজ শিগগিরই শেষ হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা এখানেই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। এ ছাড়া স্টেডিয়ামের উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত সুইমিং পুল সংস্কার করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী আজম ও সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আনজুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও আশরাফুজ্জামান মিঠু।

এ ছাড়া বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যশোর জেলা শাখার সদস্য সচিব নির্মল কুমার বিট, আদিবাসী মন্দির কমিটির সভাপতি মিন্টু কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক বরুণ কর্মকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী দিনভর তাঁর নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

আরও খবর লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

« বিস্তারিত কমেন্টে »
prothomsomachar.com