শিশুদের বয়স, মানসিক বিকাশ, আবেগ ও শেখার ধরন একেক রকম উল্লেখ করে তিনি লেখেন, তাই একজন শিক্ষককে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানে দক্ষ হলেই চলবে না; শিশুদের মনস্তত্ত্ব বুঝে তাদের সঙ্গে বয়সোপযোগী ও মানবিক আচরণ করার সক্ষমতাও থাকতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আবাসিক মাদরাসাগুলোর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষক নিবন্ধন, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা, এবং গুরুতর অপরাধে জড়িত শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্ল্যাকলিস্টিংয়ের মতো পদক্ষেপও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে।
মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, মাদরাসাগুলোতে শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি, বেত্রাঘাত ও টর্চারের ঘটনাও মাঝে মাঝেই ঘটে। এই ঘটনাগুলোও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি জনমনে নেতিবাচকতা জন্ম দেয়। এমন কোনো আচরণ, যা শিশুর মনে ভয়, অপমান বা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমা সৃষ্টি করে-তা শিক্ষার উদ্দেশ্যের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শৃঙ্খলা অবশ্যই থাকতে হবে, তবে তা হতে হবে প্রজ্ঞা, ভালোবাসা ও মানবিকতার ভিত্তিতে। জোর করে বিদ্যা চাপিয়ে দেওয়ার নাম শিক্ষা নয়, শিক্ষা হলো আপনার সন্তানের স্বতঃস্ফূর্ত আত্মবিকাশ। এক্ষেত্রে প্রতিটি মাদরাসায় কার্যকর শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বা চাইল্ড সেফটি পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য ও নিষিদ্ধ আচরণ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের পদ্ধতি এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারে, সেজন্য নিরাপদ ব্যবস্থা রাখা এবং অভিযোগকারীর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা করাও জরুরি। গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা অভ্যন্তরীণভাবে ধামাচাপা না দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে।শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের আচরণের সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
আজহারী লেখেন, শাসনের নামে ভয় দেখানো, অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি কিংবা অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিসর ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি একান্তে সাক্ষাৎ, ব্যক্তিগত বার্তা সব ক্ষেত্রেই নিরাপদ ও পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখতে হবে।পোস্টে তিনি লেখেন, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পুনরায় একই ধরনের দায়িত্বে নিয়োগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা উচিত। তবে, অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও জরুরি। এক্ষেত্রে আলেম-ওলামা, মাদরাসা পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে সীমিত সামর্থ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিশু সুরক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
এতে তিনি আরও লেখেন, সংস্কারের লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা নয়; বরং তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও আস্থাশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা।শেষে তিনি লেখেন, আমাদের এই পর্যালোচনা মাদরাসার বিরুদ্ধে নয়; বরং মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি শুধু তার ঐতিহ্য বা সুনামে নয়; বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা ও পরিচালনব্যবস্থার স্বচ্ছতার মধ্যেও নিহিত। নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে আত্মসমালোচনা, জবাবদিহি ও সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়া দুর্বলতা নয়; বরং দায়িত্বশীলতার পরিচয়। দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা ও সমাজের আস্থা অটুট রাখতে এখনই কার্যকর ও সময়োপযোগী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

পাহাড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিলেন মীর শাহে আলম
মসজিদের মাইকে চোর ঘোষণা, গণপিটুনিতে ২ জন নিহত