শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
Logo
×

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে তরুণদের স্মৃতিচারণ

Icon প্রথম সমাচার ডেস্ক

দার্শনিক বাট্রান্ড রাসেলের কথায়, ‘শিক্ষক সমাজ হচ্ছেন প্রকৃতই সমাজ ও সভ্যতার বিবেক।’ এ জন্য শিক্ষকদের বলা হয় সমাজ বিনির্মাণের স্থপতি। শিক্ষকরা শুধু পাঠদান ই করেন না বরং শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক এবং চারিত্রিক বিকাশে অন্যতম ভূমিকা রাখে।

বিশ্বে সবার জন্য শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের কারিগর হিসেবে নিয়োজিত শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে।

শিক্ষার্থীদের জীবনে এই শিক্ষক সমাজের প্রভাব অনেক বেশি। তাই তো ” বিশ্ব শিক্ষক দিবস ” এ শিক্ষকদের নিয়ে তাদের অনুভূতি তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থী মোতাহের উদ্দিন ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থী রাকিব হোসাইন বলেন ছোটবেলায় ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ নিয়ে অনেক রচনা পড়েছিলাম; কিন্তু তখন এর গভীরতা উপলব্ধি করতে পারিনি। পরিক্ষায় পাস করতে হবে তাই মুখস্থ করতাম। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে উপলব্ধি করেছি, কীভাবে একজন শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান, চিন্তা, মূল্যবোধ, চরিত্র ও জীবনবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আমার কাছে শিক্ষক মানে একজন পথপ্রদর্শক—যিনি একজন শিক্ষার্থী, সমাজ বা বৃহৎ অর্থে রাষ্ট্রকে সঠিক পথের দিক নির্দেশনা প্রধান করেন।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমার সকল শিক্ষককে জানাই গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। আমার জীবনের পথচলায় যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আলো জ্বেলেছেন, তাঁদের প্রতি আবারও চিরকৃতজ্ঞ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থী শারমিন কবির আখি বলেন আমার ছাত্রজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও নিয়মিত পড়ার অভ্যাস তৈরি করেছেন। মাধ্যমিকের একজন শিক্ষিকা আমাকে ভালো ফলাফল ও সঠিক গ্রুপ নির্বাচনে উৎসাহ দিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছেন। উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন হতে সাহায্য করেছেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের শিক্ষা, পরামর্শ ও অনুপ্রেরণা আমার ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম বলেন শিক্ষক হলো জাতির মেরুদণ্ড। পিতা-মাতার পর আমাদের ব্যক্তি জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে শিক্ষক। শিক্ষকের পাঠদান শুধু শ্রেণী কক্ষের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় তিনি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে অবদান রাখেন। ছাত্রের জীবনের লক্ষ্য থেকে শুরু করে জীবনে সফলতার প্রত্যেকটা ধাপে শিক্ষকের অবদান অনস্বীকার্য। আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত শিক্ষককে তার প্রাপ্য সম্মান এবং মর্যাদা দেয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, মানুষ গড়ার কারিগর মহান শিক্ষকগণ আমাদের দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে আজও অবহেলিত। শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করা হলে মেধাবী তরুণরা এ পেশার প্রতি আগ্রহ হারাবে। সরকারের উচিত এ বিষয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা।পরিশেষে,শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষাগুরুকে জানাই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।

নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর শিক্ষার্থী উম্মে রিপা বলেন আমাদের জীবনে সর্ব প্রথম জ্ঞান বিতরণের মূল কান্ডারী হিসেবে শিক্ষকদের আবির্ভাব ঘটে।

তারপর এই কান্ডারীরা জীবনের প্রতিটি ধাপে হাত ধরে পথ দেখান নতুন দিগন্তের। তাঁরা হাত ধরে পথ দেখান বলে আমরা খুঁজে পাই জীবনে আলোর দিশা।

শিক্ষক শুধুমাত্র ব্ল্যাকবোর্ডে কিছু অক্ষর বা খাতার পাতায় কিছু অঙ্ক কষিয়ে দেওয়ার মানুষ নন; তাঁরা হলেন একটি সমাজ ও জাতি বিনির্মাণের মূল স্থপতি।

আমার শিক্ষাগত জীবনে আমার শিক্ষকসহ বিশ্বের প্রতিটি জাতি গড়ার কান্ডারীদের প্রতি অজস্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

এই জাতি বিনির্মাণের মূল স্থপতি শিক্ষকদের বছরের কেবল একটি সুনির্দিষ্ট দিনেই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশে সীমাবদ্ধ রাখা উচিৎ নয়। তাঁদের অসামান্য অবদানকে অস্বীকার করে সন্মান জানানো আমাদের প্রতিদিনের কর্তব্য।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাছান বলেন শিক্ষক শুধু শিক্ষকই হয় না, উনারা আমাদের পরিবারের মতো। একাডেমিক পড়াশুনার বাহিরেও উনারা আমাদের জীবনে নানান অর্জনের সহযোগিও হয়ে উঠে। এমনি কয়েকজন শিক্ষক আমার জীবনে এসেছিলেন, যাদের নাম আমি না-ই উল্লেখ করলাম, বাবা মারা যাওয়ার পর আমার পড়া শুনার দায়িত্ব আমার আম্মুই নিল। যদিও আম্মুর একাডেমিক পড়াশুনা খুবই কম, প্রাইমারির গন্ডি পর্যন্ত আম্মু হাতেই মানুষ হয়েছি। প্রাইমারির গন্ডি পার হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট হওয়া পর্যন্ত সব অবদান আমার শিক্ষকদের। উনারা আমার পরিবারের মতো আমাকে সব সময় গাইড করেছে, অনুপ্রাণিত করেছে সকল ক্ষেত্রে। উনারা সহযোগিতা না করলে আজ হয়তো এতদূর আসতে পারতাম না।প্রতিটা স্টুডেন্টের জীবনে এইরকম কয়েকজন শিক্ষক আসুক তাদের সফলতার সাথি হউক।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস, শুধু একটি দিবস নয়। শিক্ষক সমাজ একটি দিনে তাদের অবদান সম্পর্কে অন্যের মূল্যায়ন ও মন্তব্য জানার পাশাপাশি নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং তা পালন করতে নতুন করে সংকল্পবদ্ধ হবেন। শিক্ষক দিবস শুধু শিক্ষকদের দাবি আদায়ের জন্য নয়, শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকাই যে সবচেয়ে বেশি সে কথা মনে করে দেয়। পরিশেষে সমাজ গঠনের পথপ্রদর্শক শিক্ষক সমাজ কে জানাই বিশ্ব শিক্ষক দিবস এর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

মোতাহের উদ্দিন

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আরও খবর লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

« বিস্তারিত কমেন্টে »
prothomsomachar.com