সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
Logo
×

এক কলেজে তিন অধ্যক্ষ, তিন সভাপতি; নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ঘিরে ব্যাহত স্বাভাবিক কার্যক্রম

Icon প্রথম সমাচার ডেস্ক

পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য রবিউল আলম অশ্রুকে সভাপতি এবং আকিল আহম্মেদ মমিনকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে মনোনয়নের জন্য গাবতলী-শাজাহানপুর-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন ডিও লেটার দেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, শাহজালাল মানিকও নিজেকে কলেজটির সভাপতি বলে দাবি করছেন। তার দাবি, তাকেও সংসদ সদস্য ডিও লেটার দিয়েছেন। সভাপতির পদে একাধিক ব্যক্তির দাবি এবং বারবার কমিটি পরিবর্তনের ঘটনায় কলেজ পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

কলেজের কমিটি ও নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। একটি পক্ষের দাবি, শাহজালাল মানিকের নেতৃত্বাধীন কমিটির নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

সভাপতি পদে দাবিদার আকিল আহম্মেদ মমিন বলেন, বর্তমানে কলেজটিতে তিনটি কমিটি নিজেদের বৈধ বলে দাবি করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত কমিটির বিরুদ্ধে তাঁরা হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আকিল আহম্মেদ মমিন আরও বলেন, পরে শাহজালাল মানিককে সভাপতি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলেজের নামে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি কার উদ্যোগে এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, “বর্তমানে যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে, এর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করব। পত্রিকায় প্রতিবাদ জানাব এবং প্রতিবাদ সভা করব। এলাকাবাসী, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও কমিটি এ নিয়োগ মেনে নেবে না।” নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পেছনে অসাধু উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, সভাপতি পদে দাবিদার শাহজালাল মানিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকের কলেজে প্রবেশের অনুমতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সরকারি বিধির কথা উল্লেখ করে শাহজালাল মানিক বলেন, প্রতিষ্ঠান চলাকালে অনুমতি ছাড়া কোনো সাংবাদিক সেখানে প্রবেশ করতে পারেন না। পরে সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলবেন জানিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

কলেজের কমিটি নিয়ে বিরোধের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জমিদাতা ও স্থানীয়রা। কলেজের জমিদাতা মো. আশরাফ আলী বলেন, কমিটি নিয়ে বিরোধের কারণে কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। একের পর এক কমিটি পরিবর্তনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মো. আশরাফ আলী বলেন, “আমরা চাই, কলেজটি ভালোভাবে চলুক, উন্নত হোক এবং সবদিক থেকে শান্তি ফিরে আসুক। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পড়াশোনার পরিবেশ যেন ঠিক থাকে।”

কলেজের শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিনও কমিটি নিয়ে বিরোধের কারণে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, বারবার সভাপতি পরিবর্তন এবং আদালতে রিটের ঘটনায় কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, কলেজটিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী অল্প খরচে পড়াশোনা করে। কমিটি নিয়ে বিরোধ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজে একটি কমিটির নিয়োগ কার্যক্রম এবং অন্য পক্ষের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, কলেজটির প্রকৃত অবস্থা জানতে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হবে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে।

এডহক কমিটির নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের কমিটির নিয়োগ দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। এডহক কমিটির মূল কাজ হলো দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু রাখা, নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা।

তিনি আরও বলেন, কলেজের সভাপতি ও কমিটি নির্ধারণের এখতিয়ার শিক্ষা বোর্ডের। উপজেলা থেকে পাওয়া প্রস্তাব বোর্ডে পাঠানো হয়। দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজের অচলাবস্থার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই কলেজে অধ্যক্ষ ও সভাপতি পদে একাধিক ব্যক্তির দাবি, কমিটি নিয়ে বিরোধ, আদালতের আদেশের ব্যাখ্যা এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

কলেজটির বৈধ অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতি কে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি কার অনুমোদনে প্রকাশ করা হয়েছে এবং আদালতের কোনো আদেশ থাকলে তা যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট সমাধান চান স্থানীয়রা।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা পরিষ্কার করবে। কমিটি ও নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটিয়ে কলেজে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।

আরও খবর লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

« বিস্তারিত কমেন্টে »
prothomsomachar.com