ছরওয়ারে আলম আমাদেরকে বলেন, ‘ওদের (জামায়াত) কাছে বারবার পাঠাইছে, মোবাইল চাইছে, চেক করার জন্য চাইছে। ওরা দিচ্ছে না। ওরা যদি ওদের ডিভাইস দিত, তাহলে এত দিনে এটার সমাধান হয়ে যেত।’
ছরওয়ারে আলম আরও বলেন, ‘তাঁরা তো বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁরা তদন্তে সহযোগিতা না করলে আমার তো এভাবেই ঝুলে থাকতে হবে। আমি সুবিচার চাই। সঠিক তদন্ত হলে আমি সুবিচার পাব।’
মামলায় জড়িয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর চাকরিতে ফিরতে না পারায় নিজের চাকরিজীবন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন ছরওয়ারে আলম। তিনি বলেন, তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ হতে আর কয়েক মাস বাকি। মামলার তদন্ত দীর্ঘায়িত হলে পেনশনসহ চাকরিজীবনের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
ছরওয়ারে আলমের ভাষ্য, ‘সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়ে আমি চাকরিতে ফিরতে পারিনি। আমাকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।’
যে পোস্ট ঘিরে মামলা
গত ৩১ জানুয়ারি বিকেলে জামায়াতের আমিরের এক্স হ্যান্ডল থেকে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের একটি অংশে লেখা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যখন নারীদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তাঁরা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। এটি অন্য কিছু নয়; বরং পতিতাবৃত্তির অন্য একটি রূপ।’
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়, যা পরে রাজপথে বিক্ষোভেও গড়ায়। বিএনপিসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন থেকে বলা হয়, জামায়াতের আমির কর্মজীবী নারীদের চরম অবমাননা করেছেন।
পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সরকারি মেইল ব্যবহার করে আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ছরওয়ারকে আটক করে ডিবি। তাঁর মুঠোফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। পরদিন তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানায় ডিবি। তবে সেদিনই আদালত থেকে জামিন পান ছরওয়ার।
তদন্তে বাদীপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আলামত না পাওয়ার বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী আমাদেরকে বলেন, তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তাকে অবশ্যই সহযোগিতা করা উচিত। এটা বাদী-বিবাদী সবারই দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘খেয়াল রাখা উচিত, নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়।’
হ্যাকিংয়ের অভিযোগ ওঠার আট মাসের বেশি সময় পরও বাদীপক্ষের সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা হয়নি। এক্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য আসেনি। ফলে অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছিল কি না, ঘটে থাকলে কীভাবে এবং এই ঘটনার সঙ্গে ছরওয়ারে আলমের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

জামালপুরে বিএনপি নেতার স্ত্রীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ, ‘পাতানো মামা’ গ্রেপ্তার
থানায় রুমিন ফারহানা আপা এক ধরনের মব করেছেন: রাশেদ খাঁন
আলেম-ওলামাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই ফটিকছড়িতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী: এমপি সরোয়ার