অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আশিক ইকবালকে সভাপতি, ড. শাফি মাহমুদকে সচিব এবং আবু জাহেদকে প্রধান সংগঠক করে ২১ সদস্যের নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। নতুন এই পরিষদ প্রাথমিকভাবে আগামী ছয় মাস দায়িত্ব পালন করবে।
শনিবার সন্ধ্যায় সিডনির বাঙালি অধ্যুষিত লাকেম্বার ধানসিঁড়ি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হয়। সৈয়দ ইমামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক, সাংবাদিক ও কমিউনিটি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এনসিপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য রাজ্যে থাকা কমিটির সদস্যরা অনলাইনে যুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের মুখপাত্র সৈয়দ মামুন বলেন, প্রায় ১০ মাসের দীর্ঘ সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শেষে কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এবং চাঁদা পরিশোধকারী অধিকাংশ সক্রিয় সদস্যের মতামত ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ায় এনসিপির কার্যক্রম নতুন উদ্যমে সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রত্যাশা ও বর্তমান বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে সংগঠনকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে নতুন নির্বাহী পরিষদ কাজ করবে। সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল, পেশাদার ও ফলপ্রসূ করতে চারটি কার্যকরী সেলও গঠন করা হয়েছে। নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ সদস্যরাও নিজেদের দায়িত্ব ও দক্ষতা অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরাসরি অংশ নেবেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি আশিক ইকবাল বলেন, নতুন কাঠামোর মধ্য দিয়ে তাঁরা নতুন যাত্রা শুরু করছেন। সামনে অনেক কাজ ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনাও রয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশ গঠনের যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, তা এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এনসিপি অস্ট্রেলিয়াকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক, কমিউনিটিকেন্দ্রিক ও লক্ষ্যভিত্তিক কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্বেলটাউন সিডনির কাউন্সিলর ও সাবেক ডেপুটি মেয়র এবং আগামী স্টেট নির্বাচনে এমপি প্রার্থী মাসুদ খলিল, কাউন্সিলর আশিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ জার্নালিজম অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল মতিন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ, শিক্ষা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক দিলশানা পারুল।
আলোচনায় কমিউনিটি নেতারা প্রবাসে থেকেও মাতৃভূমির প্রতি দায়িত্ব পালনে এনসিপির মতো প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগানো এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা স্মরণ করেন। দেশ গঠনেও প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চলে সংগঠনের প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া স্টেট লিডরা নিজেদের পরিচয় ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভিক্টোরিয়ায় (ভিআইসি) মাজহারুল ইসলাম সজল, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় (ডব্লিউএ) আবরার রিহন প্রত্যয়, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে (এসিটি) আসিফ নূর, সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় (এসএ) ড. সাফেইন মৃদুল, নর্দার্ন টেরিটরিতে (এনটি) নূর এ আলম এবং নিউ সাউথ ওয়েলসে (এনএসডব্লিউ) ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন জিয়া।
সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি আশিক ইকবাল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বিএনপি আওয়মী লীগ থেকে শিখেছে ক্ষমতায় যাওয়ার আগে গণতন্ত্র, গেলে স্বৈরতন্ত্র: পরওয়ার
বিএনপি নেতা শাহাদাতকে প্রশাসক করায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত: এনসিপি নেতা আরিফ
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে আইজিপির অপসারণ চাইল এনসিপি