বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Logo
×

জেলেদের নদীতে নামার প্রস্তুতি, মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে ইলিশ মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা

Icon প্রথম সমাচার ডেস্ক

পেটে তো ভাত নাই, আর গায়ে ঋণের বোঝা, নৌকা আর জালই আমাদের দুনিয়া। মাঝরাতে যখন নদীতে নামব, জানি না নদী বুকভরে মাছ দেবে, নাকি চোখের জল উপহার দেবে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাসপুর গ্রামের জেলে কবির হোসেন ।

ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখতে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছিল ২২ দিনের ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা।
এ সময় মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় সরকার। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে অধিকাংশ জেলে পরিবার ধারদেনা করে কোনোভাবে সংসার চালিয়েছে। এখন নদীতে মাছ ধরার সময় এলেও তাদের মনে স্বস্তি নেই, নদীতে মাছ না মিললে ঋণের বোঝা আরও বাড়বে।

ষাটনল এলাকার মেঘনা পাড়ের জেলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিসে, আমরা পালন করেছি। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে ইলিশ শিকার করেছে। আমরা এখন একবুক আশা নিয়ে নদীতে নামার অপেক্ষা করছি। আল্লাহ কবুল করলে নদীতে ইলিশ পাব, না হলে ঋণের বোঝা বাড়বে।’

মোহনপুর এলাকার আকবর জেলে বলেন, ‘আমরা শেষ মুহূর্তে জাল সেলাই ও নৌকা মেরামত করছি। এখন নদীতে শুধু মাছ ধরব। তবে নদীতে মাছ আছে কিনা বুঝতে পারছি না। না থাকলে সংসার চালাবো কী করে?’

তারা আরও বলেন, ‘এ বছর ভরা মৌসুমেও নদীতে ইলিশের দেখা মেলেনি, আর এখন মৌসুম শেষ। জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেলে কষ্টের পাল্লা আরও ভারী হবে।’

তবে অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছর নদীতে তেমন জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। ফলে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ সহ বিভিন্ন মাছ নির্বিচারে আহরণ করেছে। এতে ভবিষ্যৎ ইলিশ উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সচেতন জেলে ও গবেষকদের মতে, মা ইলিশ নিধন অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে বাজারে, জাতীয় অর্থনীতিতে এবং জেলেদের জীবন-জীবিকায়।

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলেদের জন্য ভিজিএফের চাল বিতরণসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই জেলেরা সচেতন হোক এবং নিষেধাজ্ঞা মেনে চলুক, যাতে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়ে।

মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন জানান ,আমাদের অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে।

জাটকা রক্ষা অভিযানে ৬ লাখ মিটার জাল ও ১২ টি নৌকাসহ মোট ১৩৩ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

আরও খবর লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

« বিস্তারিত কমেন্টে »
prothomsomachar.com