সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ জমা দিয়েছে। এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে বর্তমানের তুলনায় সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়তে পারে।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান অষ্টম পে স্কেলের ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ—উভয় স্তরেই শতভাগের বেশি বেতন বৃদ্ধির রূপরেখা রাখা হয়েছে।
বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বড় ধরনের এ পরিবর্তনের মধ্যেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের বেতনের ব্যবধানও কিছুটা কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ হলেও নতুন কাঠামোয় তা ১:৮ এ নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য প্রচলিত ২০ ধাপের বাইরে বিশেষ আলাদা ধাপ নির্ধারণের সুপারিশও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ভাতা কাঠামো পুনর্বিন্যাস, পেনশন সুবিধা সংস্কার, স্বাস্থ্যবিমা চালু এবং কিছু নতুন কল্যাণ সুবিধা যুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সরকারি হিসাবে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নবম পে স্কেলের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে বলে কমিশন হিসাব দিয়েছে।
এদিকে বেতন কমিশনের সুপারিশ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। এই কমিটিই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা দেবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, আগামী ১ জুলাই থেকে অন্তত আংশিকভাবে নবম পে স্কেল কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে।
দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে স্কেলের এমন সুপারিশে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন সবার নজর সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আসন্ন বাজেট ঘোষণার দিকে।
