বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Logo
×

কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হবে গ্যাস সরবরাহ: ড. তিতুমীর

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

সরকারি উদ্যোগে নতুন উৎস থেকে গ্যাস আমদানি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদারের ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘এনার্জি সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ: ফ্রম ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টু এ রেজিলিয়েন্ট এনার্জি ট্রানজিশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় ছিল। আর্থিক সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সুস্পষ্ট কৌশলগত দিকনির্দেশনার ঘাটতিও ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, পূর্ববর্তী নীতিমালার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব বর্তমানে সাধারণ মানুষ, শিল্প খাত ও বিনিয়োগের ওপর পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি টেকসই এবং ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণ, পাইপলাইন সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন কূপ খননের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তার সব শর্ত শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পরই কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মধ্যে কেন্দ্রটি পুরোপুরি কার্যক্ষম হতে পারে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো ধরনের ঝুঁকি নিয়ে কেন্দ্রটি চালু করা হবে না।

এ সময় সরাসরি ভিএলসি কার্গোর মাধ্যমে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, সরকারি পর্যায়ে নতুন ব্যবস্থায় গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হলে দেশের খোলা বাজারে এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জন্য এটি আরও সহজলভ্য হবে।

জ্বালানি নীতিনির্ধারণে স্বল্পমেয়াদি চিন্তার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

ড. তিতুমীর বলেন, প্রকৃত জ্বালানি নিরাপত্তা বলতে এমন একটি ব্যবস্থা বোঝায়, যেখানে মানুষের জন্য সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য এবং ক্রমেই পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এমন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা আর্থিক অস্থিরতা ও বহির্বিশ্বের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হবে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...