সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×

পশ্চিমাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ইরান-সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৭ মে ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে এক ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে অভিযোগ গঠনের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমা বিশ্বে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে এবার পশ্চিমা দেশগুলোতেও নিজেদের প্রভাব বিস্তার ও হামলার কৌশল হিসেবে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করছে ইরান।

মার্কিন তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আল-সাদি ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতায়িব হিজবুল্লাহর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তার বিরুদ্ধে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় একাধিক হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানবিরোধী মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক অভিযান শুরুর পর আল-সাদি ইউরোপ ও কানাডায় অন্তত ২০টি হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ইহুদি উপাসনালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ছকও করেছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির বিশ্লেষক অ্যারন জেলিন বলেন, “কাতায়িব হিজবুল্লাহ এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, তারা পশ্চিমা দেশগুলোতেও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।” তার মতে, এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অংশ গোষ্ঠীগুলো এখন বৈশ্বিক পর্যায়ে হামলার সক্ষমতা তৈরি করছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে। সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নির্বাসিত ইরানি অধিকারকর্মী মাসিহ আলিনেজাদের নামও ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আদালতে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আল-সাদি বেলজিয়ামের একটি সিনাগগে অগ্নিসংযোগ ও প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকা ভবনে হামলার সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারেন। এসব হামলার দায় প্রথমে “হারাকাত আশহাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া” নামের একটি অজ্ঞাত গোষ্ঠী স্বীকার করলেও তদন্তকারীদের দাবি, সেটি মূলত কাতায়িব হিজবুল্লাহর ছদ্মনাম।

তদন্তকারীরা আদালতে কিছু ফোনালাপের অনুলিপিও উপস্থাপন করেছেন। সেখানে আল-সাদিকে ইহুদি উপাসনালয় ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা এবং সদস্য সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা করতে শোনা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সম্প্রতি তুরস্কে আটক হওয়ার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার আইনজীবী তাকে “রাজনৈতিক বন্দি” ও “যুদ্ধবন্দি” হিসেবে দাবি করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সমর্থিত এসব গোষ্ঠীর নিজস্ব নেতৃত্ব থাকলেও তারা আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করে। তেহরানের অনুমোদন ছাড়া এত বড় আন্তর্জাতিক হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধের কারণে কূটনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে।

সূত্র: The New York Times

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...