চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোক গমন করেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার। তিনি নিজ বাসভবন রাজশাহী শহরের শাহ মখদুম আবাসিক এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বীর সন্তানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার ১৯৩৮ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৃত নয়ন মোল্লা মণ্ডল। তিনি স্থায়ীভাবে রাজশাহী জেলার সপুরা ডাকঘরের আওতাধীন শাহ মখদুম আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
১৯৬০ সালে দিনাজপুর জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে তিনি দিনাজপুর পুলিশ লাইনে হাবিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন এবং তৎকালীন দিনাজপুরের এসপি আবুল হাশেম সাহেবের নেতৃত্বে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেন। তার সাহসী ভূমিকার কারণে পাকসেনারা সৈয়দপুরে পলায়নে বাধ্য হয় এবং ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দিনাজপুর শহর শত্রুমুক্ত থাকে।পরবর্তীতে ২৩ এপ্রিল তিনি ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলায় চলে যান এবং ৭ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। এই সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান এবং লালগোলা সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর গিয়াস আহমেদ চৌধুরী।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি অভয়া ব্রিজ অপারেশন, মহিষ কুড়ি অপারেশন, চর আলাতুলি ও দেবীনগর অপারেশন এবং নবাবগঞ্জের ১০০ ঘাটার যুদ্ধসহ একাধিক সম্মুখ যুদ্ধে বীরত্বের সাথে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় তার নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে টি.এস.আই পদে কর্মরত থেকে অবসরে যান।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আমাদের আত্মার আত্মীয়: প্রতিমন্ত্রী অমিত
রাতেই দেখা মিলতে পারে মহাজাগতিক বিস্ময়ের, সাক্ষী হবে বাংলাদেশও
সাইবার সিকিউরিটিসহ বিভিন্ন আইন সংশোধনের চেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী