সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারেন না: সংসদে ফজলুর রহমান

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন

মঙ্গলবার বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান জামায়াতে ইসলামী এবং দলটির আমিরকে লক্ষ করে তীব্র সমালোচনামূলক বক্তব্য রাখেন।

তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষ উত্তাল হয়ে ওঠে এবং বিরোধীদলীয় সদস্যরা তীব্র হট্টগোল শুরু করেন।

ফজলুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বা শহীদ পরিবারের কোনো সদস্য জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি তা করে থাকেন, তাহলে তিনি দ্বিগুণ অপরাধ করছেন।

বিরোধীদলীয় সদস্যদের হট্টগোলের মধ্যেও তিনি একই বক্তব্য দ্বিতীয়বার পুনরাবৃত্তি করেন, যা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) সংসদ সদস্যদের শান্ত করেন।

এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় এবং তার পরেও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। সেই পরিচয়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেই ফজলুর রহমান এই মন্তব্য করেন।

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, ফজলুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানিত ব্যক্তি হলেও অন্যকে অসম্মান করার অধিকার তার নেই।

শফিকুর রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, তিনি একজন শহীদ পরিবারের সন্তান এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করা তার সাংবিধানিক অধিকার। কারও অনুমতি নিয়ে তাকে রাজনীতি করতে হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। এর পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, ফজলুর রহমান নিজের মুক্তিযুদ্ধের অবদান তুলে ধরতে গিয়ে অন্যের অবদানকে খাটো করেছেন।

ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার করণসি গ্রামের সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করার পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রায় ৭২ হাজার ভোটের বড় ব্যবধানে জয়ী হন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজিত করেই তিনি সংসদে আসেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিতর্ক এবার সংসদের ভেতরেই নতুন মাত্রা পেল। এই ঘটনা আগামী দিনে সংসদীয় রাজনীতিতে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...