সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×
বহুজনকে আটক ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে

গাজাগামী ত্রাণবহরে হামলা চালাল ইসরাইল

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৮ মে ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

গাজার উদ্দেশ্যে ত্রাণসামগ্রী বহনকারী একটি আন্তর্জাতিক নৌবহরে অভিযান চালিয়ে একাধিক জাহাজ আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী। সাইপ্রাসের পশ্চিমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এতে বহু মানবাধিকার কর্মী আটক হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

আন্দোলনকারী জোট ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ (জিএসএফ) জানায়, গাজা উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে ইসরাইলের আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ এলাকায় তাদের অন্তত ১০টি জাহাজ আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ২৩টি জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সংগঠনটি এ ঘটনাকে “অবৈধ জলদস্যুতা” হিসেবে অভিহিত করেছে।

জিএসএফের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র কমান্ডোরা কয়েকটি নৌযানে উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইল।

এর আগে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নৌবহরটিকে “উস্কানিমূলক উদ্যোগ” হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করে, এতে “দুটি সহিংস তুর্কি গোষ্ঠী” জড়িত রয়েছে।

গত মাসেও ক্রিট দ্বীপের কাছে একই বহরের ২২টি নৌযান আটক করে ইসরাইলি বাহিনী। সে সময় প্রায় ১৭৫ জন কর্মীকে আটক করা হয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পরদিন অধিকাংশকে মুক্তি দেওয়া হলেও স্পেন ও ব্রাজিলের দুই নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরাইলে নেওয়া হয় এবং পরে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

পরবর্তীতে নৌবহরের বাকি অংশ তুরস্কের মারমারিস বন্দরে ফিরে যায়। সেখান থেকে গত বৃহস্পতিবার প্রায় ৫০টি নৌযান পুনরায় গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

নৌবহরে থাকা কর্মীদের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষ এখনও মানবিক সংকটে রয়েছে। জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতেই তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন।

অন্যদিকে, ইসরাইলের দাবি—গাজার ওপর আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনসম্মত এবং সেখানে পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে। তারা কোনোভাবেই অবরোধ ভাঙার চেষ্টা সহ্য করবে না।

তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, জ্বালানি সংকট, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের অভাব এবং আমদানি সীমাবদ্ধতার কারণে গাজায় মানবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, অনুমোদিত সহায়তার মাত্র ৮৬ শতাংশ শেষ পর্যন্ত গাজায় প্রবেশ করতে পেরেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়।

 

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...