অন্য শিক্ষার্থীরা যখন সকালে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখবেন, তখন পরীক্ষার হলেই নীরবে অপেক্ষা করবেন চট্টগ্রামের দুইজন খ্রিষ্টান (সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট) ধর্মের দুইজন শিক্ষার্থী। প্রায় নয় ঘণ্টা অপেক্ষার পর সূর্যাস্ত হলে শুরু হবে তাদের এইচএসসি পরীক্ষা, যা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।
ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে এমন ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট মণ্ডলীর পরীক্ষার্থীরা। শনিবারকে (Sabbath) পবিত্র বিশ্রামের দিন হিসেবে পালন করায় সূর্যাস্তের আগে তারা কোনো ধরনের জাগতিক কাজ করেন না। ফলে শনিবার দিনের বেলায় অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না তারা।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের অধীনে এবার দুই পরীক্ষার্থী এ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। তাদের একজন চট্টগ্রাম এবং অন্যজন বান্দরবান জেলার বাসিন্দা।
প্রশ্নের গোপনীয়তা ও পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে অন্য পরীক্ষার্থীদের মতো তাদেরও সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। তবে তারা পরীক্ষা শুরু করবেন সূর্যাস্তের পর। এ সময় পর্যন্ত তাদের পরীক্ষাকেন্দ্রেই কঠোর তত্ত্বাবধানে রাখা হবে। এরপর বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যা শেষ হবে রাত ১০টার দিকে।
আগামী শনিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হচ্ছে তাদের এই ব্যতিক্রমী পরীক্ষা কার্যক্রম।
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার রুটিনে মোট ছয়টি শনিবার থাকায় সারা দেশে সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের প্রায় ১৬০ জন পরীক্ষার্থী একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষা বোর্ডগুলো তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরই এ সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়। পরীক্ষার নিরাপত্তা, প্রশ্নের গোপনীয়তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা—সবকিছু বিবেচনায় রেখেই এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।
