দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চারটি বিভাগের সতেরোটি জেলায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে অল্প সময়ের জন্য বন্যা দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাস আসার পর চলমান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে।
এই উদ্বেগের জবাবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা তদারকি কমিটি জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়া বা দুর্যোগের মধ্যেও যাতে পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে জন্য আগে থেকেই বিকল্প পরিকল্পনা সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
কমিটির প্রধান, যিনি একই সঙ্গে রাজধানীর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বেও আছেন, মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পরীক্ষা মুলতবি রাখা বা কোনো পরিবর্তন আনার মতো সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হবে না; বরং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সবুজ সংকেত পেলেই এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তার ভাষ্যে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের কোথাও এখন পর্যন্ত পরীক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার মতো কোনো প্রতিবেদন তাদের কাছে আসেনি, যদিও প্রয়োজন পড়লে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থায় যাওয়ার প্রস্তুতিও রাখা আছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির বিবরণ দিতে গিয়ে দুর্যোগ পূর্বাভাস সংস্থা জানায়, বিগত এক দিনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রবল এবং সিলেট ও বরিশাল এলাকায় মাঝারি থেকে প্রবল মাত্রার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে, আর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয়-ত্রিপুরাতেও একই রকম ভারী বর্ষণ দেখা গেছে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন এই ভারী বৃষ্টিধারা চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চল এবং সীমান্তের ওপারের উজানভূমিতেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর জেরে চট্টগ্রাম বিভাগের একাধিক নদী—গোমতী, মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী—আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার প্রভাবে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির নিচু অংশে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু জায়গাও সাময়িক প্লাবনের কবলে পড়তে পারে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও চিত্র একইরকম উদ্বেগজনক—সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে, যার ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নির্দিষ্ট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীও একই পথে এগোচ্ছে—আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যাতে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের কিছু অংশে স্বল্পস্থায়ী বন্যা দেখা দিতে পারে।
তবে স্বস্তির খবর হলো, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার পানি বর্তমানে নিম্নমুখী থাকলেও আগামী কয়েক দিনে তা পুনরায় বাড়তে পারে, যদিও আপাতত এই নদীগুলো বিপৎসীমার নিচেই প্রবাহিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
