মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার শেষ পর্যায়ের কাজ। প্রতিমা নির্মাণ, আলোকসজ্জা, তোরণ ও প্যান্ডেল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী, কারিগর ও আয়োজকেরা। উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসায় কাজ শেষ করতে তাঁদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।
রং-তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে দেবীর রূপ
প্রতিমাশিল্পীদের কাছে দুর্গাপূজা কেবল জীবিকা নির্বাহের উপলক্ষ নয়; এটি তাঁদের বংশপরম্পরায় লালিত শিল্প, ঐতিহ্য ও ভালোবাসার এক অনন্য প্রকাশ। মাটি, খড় ও বাঁশের কাঠামোয় গড়ে তোলা প্রতিমায় যখন রং-তুলির শেষ আঁচড় পড়ে, তখনই পূর্ণতা পায় তাঁদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও সাধনা।
প্রতিমাশিল্পী ঝন্টু পাল বলেন, “এ বছর ১৮টি প্রতিমা তৈরি করছি। সবগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমি, আমার ভাই মন্টু পাল ও পাঁচজন কারিগর মিলে দিন-রাত কাজ করে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করার পথে রয়েছি। প্রতিমাগুলো এখন রং করা হচ্ছে। তবে প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম অনেক বেড়েছে। সে অনুপাতে প্রতিমার দাম বাড়েনি। আমরা বংশপরম্পরার অংশ হিসেবে প্রতিমা তৈরি করি। এটি আমাদের আনন্দের অংশ। লাভ-লোকসানের চিন্তা করি না।”
তিনি জানান, খড়, বাঁশ, রং এবং এঁটেল ও দোআঁশ মাটিসহ প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়েনি প্রতিমার পারিশ্রমিক। তারপরও শিল্পের প্রতি ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখার তাগিদে তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আয়োজনের প্রস্তুতি
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আনন্দ অক্ষুণ্ন রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রশাসন ও পূজা উদযাপন-সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্যসচিব প্রবীর চৌধুরী রিপন জানান, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের আয়োজক কমিটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখার জন্য আয়োজকদের বলা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পূজা উদযাপন-সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশের টহল দলও দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি শহরের বেহাল সড়কগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
দেবীপক্ষের আবাহনে অপেক্ষা আনন্দের
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত আচার অনুযায়ী, দুর্গাপূজা শুধু দেবী আরাধনার উৎসব নয়; এটি অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক। মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গার বন্দনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা প্রার্থনা করেন শান্তি, কল্যাণ ও মঙ্গলময় জীবনের।
শাস্ত্রমতে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় নৌকায় দেবীর গমনকে ধরিত্রী শস্যশ্যামলা হয়ে ওঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়।
দেবীকে বরণ করে নিতে তাই এখন অধীর অপেক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। প্রতিমার শেষ সাজ, মণ্ডপের বর্ণিল আলোকসজ্জা আর ঢাকের ছন্দে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে উৎসবের আয়োজন। দেবীপক্ষের আবাহনে জেলার প্রতিটি মণ্ডপ হয়ে উঠবে ভক্তি, আনন্দ ও সম্প্রীতির মিলনক্ষেত্র—এমন প্রত্যাশাই আয়োজক ও পুণ্যার্থীদের।

কী খবর মাসুদ, ভালো?—চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রী
স্থানীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটে জয়ী হবেন এমন প্রার্থীকে বেছে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
স্বৈরাচারের গুলি কিন্তু দেখেনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিষ্টান: প্রধানমন্ত্রী