সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে এইডসের প্রকোপ

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন

এসটিডির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দেশে এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩১৩। এর মধ্যে দুই হাজার ৬৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আট হাজার ৫০০ জন। তাদের প্রায় অর্ধেকই সমকামী। এর মধ্যে ৮০ ভাগই আবার শিক্ষার্থী।

জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক ডা. মো. খায়রুজ্জামান বলেন, ‘এটি উদ্বেগজনক যে, আক্রান্তদের বড় অংশই শিক্ষার্থী।’ গত দুই-তিন বছর ধরে এই প্রবণতা ক্রমাগত বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আক্রান্তদের মধ্যে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। সমকামিতা আগেও ছিল, কিন্তু হয়তো প্রকাশ পেত না। এখন শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রকাশ পাচ্ছে। শনাক্ত হওয়ার ফলে আক্রান্তদের চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিতদের মধ্যে কেন বাড়ছে, সেটি গবেষণার বিষয়।’

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সাড়ে তিনশর মতো রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ; এই তিন মাসে এক হাজার ২৪১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জনের এইডস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনই সমকামী, তাদের মধ্যে আটজন শিক্ষার্থী। কেন্দ্রটির পরামর্শক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুদেব কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘পরিস্থিতি এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যেন সমকামী মানেই যেন শিক্ষার্থী।’ শুধু যশোর নয়; চট্টগ্রাম, খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্রও প্রায় একই রকম।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মাঝে কেন বাড়ছে, বিষয়টির গবেষণা দরকার। এইচআইভি নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বড় আকারে কর্মসূচি ঠিক করছে।’

দেশে সর্বোচ্চ এইচআইভি শনাক্ত হয় রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। গত বছর এই কেন্দ্রে ২৯৩ জনের এইডস শনাক্ত হয়েছিল। চলতি বছর প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০টি পরীক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৮ থেকে ৩০ জনের সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে, যাদের ৭০ শতাংশই সমকামী।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্তকরণ কেন্দ্র মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২০২৫ সালে ২ হাজার ৯২টি পরীক্ষায় এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে ২৭২ জনের। এর মধ্যে পুরুষ সমকামী ১১৭ জন। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশই শিক্ষার্থী।

হাসপাতালের পরামর্শক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. লিটন খান বলেন, ‘একসময় যৌনকর্মী ও মাদকসেবীদের মাঝে আক্রান্তের হার বেশি থাকলেও বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে সমকামীদের মাঝে। তাদের বড় অংশই শিক্ষার্থী, এটি উদ্বেগজনক। অনেকে হয়তো এখনও লক্ষণ নিয়ে গোপনে রয়েছেন। পরিবেশ না পাওয়ায় অনেকে বলার সাহস পান না। এমনকি কাছের মানুষদের সঙ্গেও আলোচনা করতে ভয় পান কেউ কেউ। কারণ, এইডসে আক্রান্ত জানলেই সামাজিকভাবে এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়।’

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...