২০২৬ আইপিএলের ৪৮তম ম্যাচে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস এবং চেন্নাই সুপার কিংস। এই ম্যাচে দিল্লিকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে জয় পেয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দিল্লি নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১৫ বল হাতে রেখেই মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় চেন্নাই। অপরাজিত ৮৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন চেন্নাইয়ের সাঞ্জু স্যামসন।
দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে শুরুটা তাদের জন্য সুখকর ছিল না। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দিল্লির হয়ে হাল ধরেন সামির রিজভি এবং ট্রিস্টান স্টাবস। রিজভি ২৪ বলে সর্বোচ্চ ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন, যেখানে ছিল ৪টি বিশাল ছক্কার মার। স্টাবস ৩১ বলে ৩৮ রান এবং আশুতোষ শর্মা ৫ বলে ১৪ রানের ক্যামিও খেললে দিল্লি ১৫৫ রানের লড়াকু পুঁজি পায়। চেন্নাইয়ের বোলারদের মধ্যে নূর আহমেদ ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট এবং জেমি ওভারটন ১টি উইকেট লাভ করেন।
১৫৬ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে চেন্নাইয়ের শুরুটা ছিল ধীরগতির। অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় মাত্র ৬ রান করে ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে দল। তবে দ্বিতীয় উইকেটে সাঞ্জু স্যামসন এবং কার্তিক শর্মা মিলে ১০০ রানের এক অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়ে ম্যাচ দিল্লির হাত থেকে কেড়ে নেন। স্যামসন ৫২ বলে ৮৭ রানের এক রাজকীয় ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৭টি চার এবং ৬টি ছক্কার প্রদর্শনী। অন্যদিকে কার্তিক শর্মা ৩১ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪১ রান করে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।
দিল্লির বোলাররা চেন্নাইয়ের ব্যাটসম্যানদের ওপর খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। অভিজ্ঞ বোলার মিচেল স্টার্ক ৪ ওভারে ৩০ রান দিলেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি। স্পিনার অক্ষর প্যাটেল ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে একটি এবং লুঙ্গি এনগিডি ৪ ওভারে ৩০ রান খরচ করে একটি উইকেট শিকার করেন। তবে স্যামসন-কার্তিক জুটির সামনে দিল্লির পরিকল্পনাগুলো ভেস্তে যায় এবং স্বাগতিকদের বড় পরাজয় বরণ করতে হয়।
এই জয়ের ফলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল চেন্নাই সুপার কিংস। সাঞ্জু স্যামসনের ফর্মে ফেরা দলটিকে আসরের পরবর্তী ধাপের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। অন্যদিকে, নিজেদের ঘরের মাঠে এই পরাজয় দিল্লির জন্য প্লে-অফের সমীকরণকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সামগ্রিকভাবে, ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই পেশাদারিত্ব দেখিয়ে এই ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় চেন্নাই।
