শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Logo
×

স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ না হলে প্রধানমন্ত্রীকে ‘ঘেরাও’ করবেন নাহিদ ইসলাম

Icon প্রথম সমাচার ডেস্ক

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এই দুজন মন্ত্রীই তাদের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে দেশের সর্বত্র আমরা মিছিল করব। সেই মিছিল নিয়ে আমরা জনাব তারেক রহমানকে (প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান) ঘেরাও করে আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব, ইনশা আল্লাহ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বাংলাদেশের জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই। নিরাপত্তা দিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। এই ব্যর্থতার দায় সবচেয়ে বেশি যার ওপর বর্তায়, তিনি হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত হয়েছেন।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষায় যে গণভোট হয়েছিল, সেই গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ভোট দিয়েছিলেন। সেই গণভোটকে বাদ দিয়ে সংবিধান কাটাছেঁড়ার যে দায়িত্ব নিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমরা তার পদত্যাগের দাবিতে আজকে শাহবাগে এসেছি। সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যিনি জ্বালানিমন্ত্রী রয়েছেন, তাকেও পদত্যাগ করতে হবে। কারণ উনারা দুজনই তাদের ক্ষেত্রে ব্যর্থ।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে আমরা চার দফা দাবি নিয়ে শাহবাগে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। বিগত এক সপ্তাহ ধরেই আমাদের নেতারা এই ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছেন। জনগণের সঙ্গে কথা বলেছেন। মানুষ তাদের সমস্যার কথা বলেছেন। মানুষের বাসায় গ্যাস নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস, রাহাজানি, দোকানদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ সবার জীবন আজ নাজেহাল। বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই। সারা দেশের সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে। হাজারো মানুষের রক্তদানের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এক স্বৈরাচারকে বিদায় করে আজ নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি করা হয়েছে, অবিলম্বে সেই কমিটি বাতিল করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ করতে হবে। কারণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ করাটাই ছিল জুলাই সনদ এবং এই গণভোটের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। বিএনপি সেই প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের পর প্রথম দিন থেকেই ভঙ্গ করেছে।’

দুই মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে প্রধানমন্ত্রীকে ‘ঘেরাও’ করবেন নাহিদ

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি প্রথম দিন থেকেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আসছে। তারা জুলাই সনদে, ৩১ দফায়, তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে যতগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার সবগুলো ভঙ্গ করে যাচ্ছে। আমরা খুব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি সরকারের কাছে জনাব তারেক রহমানের দেশ পরিচালনা করার কোনো ধরনের প্ল্যান নেই। তাদের পরিকল্পনা হয়েছে কীভাবে দেশ থেকে দুর্নীতি করবে, কীভাবে লুটপাট করবে, কীভাবে চাঁদাবাজি করবে, কীভাবে সন্ত্রাস কায়েম করবে, কীভাবে দখলদারিত্ব করবে। সেই পরিকল্পনা নিয়ে জনাব তারেক রহমান লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরে শুনছি, পতিত স্বৈরাচার নাকি দেশে আসবে। আমরা জানি, সেই স্বৈরাচারকে এই নতুন স্বৈরাচার কোনোভাবেই মোকাবিলা করতে পারবে না। বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ পারেনি, বিএনপি আওয়ামী লীগ থেকে বাংলাদেশের জনগণকে রক্ষা করতে পারেনি। তারা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি, জনগণকে কীভাবে রক্ষা করবে? ফলে বাংলাদেশের তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জনগণকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মুজিববাদী ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এবং এই দুর্নীতিবাজ মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবারও রাস্তায় নামতে হবে।’

ভারতের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার নানা ধরনের চক্রান্ত চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তে হত্যা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পাহাড়ে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের ওপারে আসামে মুসলমানদের নিপীড়ন করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের নিপীড়ন করা হচ্ছে। দিল্লিতে মসজিদ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের নিয়েও চক্রান্ত করছে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ। বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়েও চক্রান্ত করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সীমান্তে স্বর্ণা দাস নামে এক কিশোরী মারা গিয়েছে। ফেলানি খাতুন মারা গিয়েছে। এই সরকার আসার পরে ১০ জনেরও অধিক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের যে চক্রান্ত, সেই চক্রান্ত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে না বর্তমান সরকার।’

ভারতের সঙ্গে করিডর ও গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, জাপানে গিয়ে আবারও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে করিডর তৈরি করার চেষ্টা করছে। অবৈধ করিডর ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে জনাব তারেক রহমান। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এ ধরনের কোনো অবৈধ করিডর বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। ডিসেম্বরে যদি গঙ্গা চুক্তি ন্যায্যভাবে নতুন করে তৈরি করা না হয়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আবারও নামবে। এবার আমরা গঙ্গা চুক্তিতে কোনোভাবেই এক বিন্দু পরিমাণ আমাদের ন্যায্য হিস্যায় ছাড় দেব না।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে যে নৈরাজ্য চলমান রয়েছে, খুন, গুম চলছে, এসবকিছুর ব্যর্থতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে, জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। আমাদের এই মিছিল বড় হবে। সারা বাংলাদেশের সর্বত্রই আমরা মিছিল করব। সেই মিছিল নিয়ে আমরা জনাব তারেক রহমানকে ঘেরাও করে আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’

ঢাকা মহানগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেক নৈরাজ্যের মধ্যে রয়েছেন, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের মধ্যে রয়েছেন। আপনাদের এই জুলুমের অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি তার দুই কাণ্ডারিকে আপনাদের সামনে সমর্পণ করছে। আমাদের নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং আসিফ মাহমুদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও ঢাকা মহানগর উত্তরে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ তারা জয়লাভ করে ঢাকা মহানগরবাসীর সব দুঃখ-দুর্দশা দূর করবেন।’

তিনি আরও বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পরিকল্পনা করে, ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছিল। ইনশাআল্লাহ এবার আমরা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হারাতে দেব না। আর আসিফ মাহমুদকে পরিকল্পনা করে নির্বাচনের বাইরে রেখে যারা ভেবেছিল গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে নিঃশেষ করে দেবে, তারাও ইনশাআল্লাহ এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পরাজিত হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ ঢাকা মহানগরবাসীর সব অধিকার, সব দাবি-দাওয়া নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানের সব নেতাকর্মী মাঠে থাকবেন।’

আরও খবর লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

« বিস্তারিত কমেন্টে »
prothomsomachar.com