সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×

হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে জাতিসংঘের কড়া সতর্ক বার্তা

আন্তর্জাতিক প্রথম সমাচার ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ বিমান হামলা শুরু করলে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক শিপিং যানচলাচল কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন।

পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় এবং সমুদ্রে মাইন পাতে। যুদ্ধের আগে প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত, এখন সেই সংখ্যা মাত্র পাঁচ শতাংশে নেমে এসেছে।

প্রণালী বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ধস নেমেছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৯ মার্কিন ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। সার, খাদ্যপণ্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যও বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সকল পক্ষকে অবিলম্বে প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো টোল ছাড়া, কোনো বৈষম্য ছাড়া বাণিজ্য পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকট কোভিড-১৯ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সরবরাহ শৃঙ্খল বিপর্যয়, এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে খালি জ্বালানির ট্যাংক, খালি দোকানের তাক আর খালি খাবারের থালা তৈরি হচ্ছে।

জাতিসংঘ প্রধান আরও জানান, বিশ্বজুড়ে ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক সমুদ্রে আটকা পড়ে আছেন এবং দুই হাজারেরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ বিপজ্জনক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।

কূটনৈতিক ময়দানেও তৎপরতা বাড়ছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইতিমধ্যে দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে এবং ৩৬টি দেশের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বাহরাইনের নেতৃত্বে ডজনখানেক দেশ হরমুজ প্রণালীর “জরুরি ও অবাধ পুনরুদ্ধারের” দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে ইরানও কিছুটা নমনীয় ভূমিকায় এসেছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে — যুক্তরাষ্ট্র তার অবরোধ তুলে নিলে এবং যুদ্ধ বন্ধ হলে ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি, তবে পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী ধাপে রাখার শর্তে।

তবে কূটনীতি এখনও গভীর অচলাবস্থায় রয়েছে। ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে পারমাণবিক ছাড়ের বিষয়ে তীব্র মতভেদ বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান অন্তত এক দশকের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করুক এবং মজুদ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠাক।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন, তবে আমেরিকা এমন কোনো চুক্তিতে রাজি হবে না যা আমেরিকানদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়।

হরমুজ প্রণালী সংকট এখন আর কেবল একটি আঞ্চলিক সামরিক দ্বন্দ্ব নয়। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এই সংকটের সমাধানের উপর নির্ভর করছে। আলোচনা চলছে, কিন্তু সমাধান এখনও দিগন্তের বাইরে।

খবর আল-জাজিরা

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...