দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্বফুটবলের মহোৎসবে ফিরছে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। এবারের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে রেকর্ড ৪৮টি দলের অংশগ্রহণের সুযোগে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে ‘অল হোয়াইটস’রা। এর আগে ১৯৮২ সালে প্রথমবার এবং সর্বশেষ ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলেছিল দলটি। ঐতিহাসিক এই আসরকে সামনে রেখে সম্প্রতি ২৬ সদস্যের একটি শক্তিশালী ও চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন।
ঘোষিত এই স্কোয়াডে অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রতিভার দারুণ এক সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন কোচ ড্যারেন ব্যাজলি। দলে বড় চমক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টমি স্মিথ, যিনি ২০১০ সালের বিশ্বকাপেও নিউজিল্যান্ডের রক্ষণভাগ সামলেছিলেন। তাঁর সঙ্গে মাঝমাঠে নতুন শক্তি যোগ করতে ডাক পেয়েছেন সম্ভাবনাময় মিডফিল্ডার ল্যাচলান বেইলিস। আক্রমণভাগের মূল ভরসা ও দলের অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার ক্রিস উড, যাঁর কাঁধে থাকবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব।
তবে স্কোয়াড ঘোষণার পাশাপাশি দলে চোটের বড় দুশ্চিন্তাও রয়েছে। চোটের সমস্যা নিয়ে রেক্সহ্যামের হয়ে মৌসুম কাটানো ফুলব্যাক লিবার্তো ক্যাকেসিকে বিশ্বকাপের মূল দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলে জায়গা পেয়েছেন অকল্যান্ড এফসির ফ্র্যান্সিস ডি ভ্রাইস, যিনি কাফ ইনজুরির কারণে গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে মাঠের বাইরে আছেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলাররা পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন বলে আশা করছে নিউজিল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট।
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘জি’-তে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে মিশর, ইরান ও বেলজিয়াম। আগামী ১৬ জুন ইরানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অল হোয়াইটসরা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে।
টুর্নামেন্টের ২৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াডে গোলরক্ষক হিসেবে আছেন ম্যাক্স ক্রোকোম্বি, অ্যালেক্স পাউলসেন ও মাইকেল ওন্ড। ডিফেন্সে স্মিথ-ক্যাকেসিদের সাথে থাকছেন ইলিয়ট, পেইন, বিন্ডন, বোক্সল, পিজ্যানকার ও সুরম্যান। মাঝমাঠ সামলাবেন বেইলিস, জো বেল, জার্বেট, জাস্ট, ওল্ড, রাফার, সারপিট সিং, স্ট্যামেনিচ ও রায়ান থমাস। আর আক্রমণভাগে অধিনায়ক ক্রিস উডের সঙ্গী হিসেবে থাকছেন বারবারুসেস, বেন ওয়েন, ম্যাককোওয়াট ও জেসি র্যান্ডল।
