এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বীরত্বগাথা লড়াই করেও হার মানতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে ম্যাচজুড়ে রোমাঞ্চ ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের।
প্রথমার্ধে সিঙ্গাপুরের একক আধিপত্য
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। তবে ৩১ মিনিটে রক্ষণভাগের কিছুটা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর। স্বাগতিক ফরোয়ার্ড গ্লেন কুয়ের একটি জোরালো শট বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা ফিরিয়ে দিলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বলে ইখসান ফান্দির পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন হ্যারিস স্টুয়ার্ট। বাংলাদেশের ডিফেন্ডার তারিক কাজী ও তপু বর্মণ তাকে বাধা দিতে ব্যর্থ হলে লিড পায় সিঙ্গাপুর।
হামজা চৌধুরী: রক্ষণে প্রাচীর, আক্রমণে প্রাণভোমরা
ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লেস্টার সিটি তারকা হামজা চৌধুরী। ম্যাচের ১৮ মিনিটে হ্যারিস স্টুয়ার্টের একটি নিশ্চিত গোল বুক দিয়ে ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের প্রতিটি আক্রমণে তিনি মূল কারিগরের ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ৭৫ ও ৭৯ মিনিটে তার বাড়ানো বলগুলো থেকে গোল পেতে পারত বাংলাদেশ, কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের লড়াই ও দুর্ভাগ্যের হানা
গোল শোধে মরিয়া কোচ কাবরেরা দ্বিতীয়ার্ধে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও শেখ মোরসালিনকে তুলে নিয়ে শাহরিয়ার ইমন ও মিরাজুল ইসলামকে মাঠে নামান। পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের আক্রমণের ধার বাড়ে।
-
৫৯ মিনিট: ফাহমিদুলের ভাসানো শট তালুবন্দী করেন সিঙ্গাপুর গোলরক্ষক।
-
৭৯ মিনিট: ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে এই সময়ে। হামজার নিখুঁত ক্রসে মিরাজুল ইসলাম পা ছোঁয়ালেও বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এই একটি মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
গ্যালারিতে প্রবাসীদের গর্জন
সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে এদিন বাংলাদেশের সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বরাদ্দকৃত ৬ হাজার টিকিটের সবকটিই পূর্ণ ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের দিয়ে। পুরো ম্যাচজুড়ে তারা প্রিয় দলকে সমর্থন দিলেও শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
বাছাইপর্বের সারসংক্ষেপ
এশিয়ান কাপ থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া বাংলাদেশের সামনে এটি ছিল স্রেফ সম্মান রক্ষার ম্যাচ।
-
মোট ম্যাচ: ৬টি
-
অর্জন: ৫ পয়েন্ট
-
ফলাফল: ১-০ গোলে পরাজয়
খেলা শেষে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় হামজা চৌধুরীকে। মাঠের সেই দৃশ্যটিই যেন ছিল পুরো দলের লড়াই এবং আক্ষেপের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ৫ পয়েন্ট নিয়ে এবারের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব শেষ করল বাংলাদেশ।
