শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Logo
×

একজন শিক্ষককে হতে হবে অত্যন্ত সৎ, আমানতদার ও দায়িত্বশীল: আহমাদুল্লাহ

Icon প্রথম সমাচার ডেস্ক

শিশুরা আগামীর পৃথিবী। তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার মধ্যেই নিহিত একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা। এই ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারিগর হলেন শিক্ষকগণ। একজন শিক্ষকের হাতেই রচিত হয় আগামীর পৃথিবী। আগামী দিনের পৃথিবী ও সমাজব্যবস্থা কেমন হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে আজকের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকের ওপর। তাই একজন শিক্ষককে হতে হবে অত্যন্ত সৎ, আমানতদার ও দায়িত্বশীল।

একই সঙ্গে তাঁকে হতে হবে শিশুর নির্ভরতার জায়গা, নিরাপদ আশ্রয়। একটি ছোট চারা গাছ যেভাবে আলো, বাতাস ও মালির যত্নে ধীরে ধীরে বিশাল মহিরুহে পরিণত হয়, তেমনি একজন মানবশিশুর সুপ্ত সম্ভাবনাও বিকশিত হয় শিক্ষক নামক মালির সযত্ন পরিচর্যা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে। এজন্য শিক্ষককে যেমন আদর্শবান হতে হবে, তেমনি শিশুর জন্য নিশ্চিত করতে হবে ভয়হীন, নিরাপদ ও আনন্দময় শিক্ষাঙ্গন। কারণ শিশুরা দিনের যতটা সময় পরিবারের কাছে থাকে, তার চেয়ে বেশি সময় থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ফলে একটি শিশুর মনোজগৎ, চিন্তা-চেতনা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষক ও শিক্ষাঙ্গনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়-বর্তমানে প্রায়শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নানা আচরণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর আমাদের সামনে আসছে, যা আমাদের রীতিমতো শঙ্কিত করে তুলছে। উদ্বিগ্ন করে তুলছে অভিভাবকদের।

শিক্ষক যখন নীতিভ্রষ্ট হন, তখন তার বিষাক্ত প্রভাব কেবল একটি শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা গোটা প্রজন্মকে কলুষিত করে। এটি নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য অশনিসংকেত। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে হবে এমন নিরাপদ আশ্রয়স্থল, যেখানে প্রবেশমাত্র শিশু নিরাপত্তা ও নির্ভরতা পাবে। এর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

শিশুরা আমাদের আমানত। আমানতের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নৈতিক সুরক্ষার নির্দেশ ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানত তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দেবে’ (সুরা নিসা-৫৮)। শিশুদের শিক্ষা, প্রতিপালন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব যাদের ওপর অর্পিত, তাদের জন্য এ নির্দেশনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। অন্য আরেক হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে’ (সহিহ বুখারি-৭১৩৮)।

শিক্ষকতা নিছক কোনো অর্থ উপার্জনের পেশা নয়, এটি মহাগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও অমানত। শরিয়তে শিশুরা গায়রে মুকাল্লাফ তথা দায়ভার ও জবাবদিহি থেকে মুক্ত। তারা শারীরিকভাবে যেমন দুর্বল তেমনি মানসিকভাবেও কোমল। তাই তাদের সঙ্গে কোমল ও নরম আচরণ করতে হবে। তাদের শিক্ষাদান করতে হবে মায়ের মতো স্নেহ-মমতা দিয়ে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত; নবীজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহ আমাকে হঠকারী ও কঠোরতাকারীরূপে প্রেরণ করেননি; বরং সহজ-কোমল আচরণকারী শিক্ষকরূপে প্রেরণ করেছেন (মুসলিম-১৪৭৮)। সুতরাং শিক্ষককে হতে হবে অত্যন্ত কোমল ও শিশুবান্ধব। শিশুর মন এক টুকরো শুভ্র কাগজের মতো স্বচ্ছ ও সংবেদনশীল। সেখানে শিক্ষকের আচরণ যে ছাপ রেখে যায়, তা শিশুর জীবন গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে।

আরও খবর লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

« বিস্তারিত কমেন্টে »
prothomsomachar.com