নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬
দীর্ঘ এক দশক ধরে ঝুলে থাকা সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় এক যুগান্তকারী মোড় এসেছে। কুমিল্লার একটি আদালত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তিন জন সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। ওই রাতেই সেনানিবাস সংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তৎকালীন সময়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনের ঝড় ওঠে।
তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা
গত ১০ বছরে এই মামলাটি পুলিশ এবং সিআইডির হাত ঘুরে বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। একাধিকবার ময়নাতদন্ত এবং তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তন হলেও এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি এবং কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমান অগ্রগতি
পিবিআই-এর সাম্প্রতিক তৎপরতায় এই তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়টি সামনে আসে। তদন্ত কর্মকর্তাদের আশা, সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সাথে সন্দেহভাজনদের নমুনা মিলে গেলে ১০ বছর ধরে চলা এই বিচারহীনতার অবসান হতে পারে।
“আমরা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে শুধু ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি। এই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসবে—এটাই এখন আমাদের শেষ ভরসা।” > — তনুর পরিবার ও সংশ্লিষ্ট বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ।
সারসংক্ষেপ: মামলার মূল তথ্য
- নিহত: সোহাগী জাহান তনু (ছাত্রী ও নাট্যকর্মী)।
- সময়কাল: ২০১৬ থেকে ২০২৬ (১০ বছর)।
- সর্বশেষ নির্দেশ: ৩ জন সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ ম্যাচিং।
- তদন্তকারী সংস্থা: পিবিআই (Police Bureau of Investigation)।
দশ বছর আগের সেই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে এই ডিএনএ পরীক্ষা একটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা।
