গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান জাতীয় সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার প্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি থেকে জিয়া পরিবার অসীম ধৈর্য ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া তার দুই সন্তানসহ বন্দিশালায় যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন, তা ইতিহাসের এক অনস্বীকার্য অধ্যায়। একে রাজনৈতিক চাটুকারিতা নয় বরং ইতিহাসের সত্য হিসেবে অভিহিত করে তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধা এবং তার দুই সন্তানকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন যে, এই প্রস্তাব তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে খুশি করার জন্য নয়, বরং ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়নের তাগিদ থেকে করছেন। তার মতে, একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে প্রতিটি ত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি প্রয়োজন। তিনি তারেক রহমানের দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে তাকে নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।
বক্তব্যে আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করে মুজিবুর রহমান বলেন, শৈশবে যুদ্ধের বন্দিশালায় থাকা থেকে শুরু করে পরবর্তী জীবনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া পর্যন্ত কোকোর জীবন ছিল অত্যন্ত বেদনাবিধুর। তাকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে অনুপ্রাণিত হয়ে গাজীপুরসহ সারা দেশের মানুষ একটি নতুন স্বপ্ন দেখছে।
