মেয়েদের ডিগ্রি ও স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রথম শাসনামলে মেয়েদের ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ও পরবর্তীতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে চালু করেছিলেন। বর্তমান সরকার শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন করবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- মেয়েদের ডিগ্রি ও স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করবো। যাতে করে মেয়েরা আরও উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে।
এছাড়া যেসকল মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করবে তাদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা করবো। আজ বিকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এই দেশের মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে। বিএনপি বিশ্বাস করে এই দেশের মানুষের উন্নতি মানেই দেশের উন্নতি। দেশের ২০ কোটি মানুষের কল্যাণে বিএনপির সরকার কাজ করছে। বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ শুরু করেছে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত জনগণের সরকার। আমরা সেই কাজগুলো করবো যে কাজগুলোর মাধ্যমে জনগণের উন্নয়ন হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে যশোরের জনসভায় বলেছিলাম, ইনশাআল্লাহ জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। সরকার পরিচালনার সুযোগ পেয়ে বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু করেছে। বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমরা যা বলি তাই করি। আমরা কথা মালার রাজনীতি করি না।
বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যখন তার উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে, তখনই এক শ্রেণীর মানুষ ভিন্ন ধরনের রাজনীতি নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি জনগণের প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করছে। এই চক্রটি বলছে- বিএনপি ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে গেছে। কিন্তু কারা ফ্যাসিবাদের দোসর তা দেশের মানুষ জানে। ৫ই আগস্টের পর তারা বলেছিল, আমরা সবাইকে মাফ করে দিলাম। এখন তারাই ফ্যাসিবাদীদের সাথে আঁতাত করে নতুন করে ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করছে। আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের মানুষের স্বার্থ ও উন্নয়ন। আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে- রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে- জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, লাইন ও শব্দ সংসদে বিল আকারে পাস করে তা বাস্তবায়ন করা।
তারেক রহমান বলেন, আজ যারা জুলাই সনদ নিয়ে মায়াকান্না করছেন তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানসহ তার দোসররা পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে মাফ করে দিয়েছিল, তাদের মুখে ফ্যাসিবাদ বিরোধী কথা মানায় না। শহীদ জিয়া যেমন বলেছিলেন ৯ কোটি মানুষের ১৮ কোটি হাত, আজ বলবো ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। এই ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে পরিণত করতে হবে। আজ আমরা যেমন শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার কাজ শুরু করেছি। আমাদের মুল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের জনগণ। তাইতো আমরা বলি প্রথম বাংলা আমার শেষ বাংলাদেশ। আমরা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন সেই জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করা হবে। ২৮ মিনিটের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ও দেশের কল্যাণে তার সরকারের গৃহিত কর্মসূচী তুলে ধরে তা পর্যায়ক্রমে পূরণের কথা পুনঃব্যক্ত করেন।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম চৌধৃরী, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, অমলেন্দু দাস অপু, সাবিরা সুলতানা মুন্নি, মিজানুর রহমান খানসহ জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী যদুনাথপুর জিয়া খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করেন। তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়ি বোঝাই করেন এবং তিনি ও অমিত সেই ঝৃড়ি বোঝাই মাটি শ্রমিকের মাথায় তুলে দেন। এখানে এক সংক্ষিপ্ত সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ বেডের হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করেন। মেডিকেল কলেজের প্রোগ্রাম শেষ করে গাড়ি বহর নিয়ে যশোরে ঐতিহ্যবাহী যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরী পরিদর্শন করেন। তিনি এ সময় ঘুরে ঘুরে লাইব্রেরির বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন এবং শত বছরের পুরাতন তালপাতায় লেখা স্বচোক্ষে অবলোকন করেন। পরে যশোর ঈদগাহ ময়দানে যশোর জেলা বিএনপির জনসভায় যোগ দেন।
