আইপিএল ২০২৬-এর ৩৯তম হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস (DC) ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। বল হাতে বিধ্বংসী স্পেল করে ম্যাচের ভাগ্য একাই গড়ে দেওয়া জশ হ্যাজলউড এই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় (Player of the Match) নির্বাচিত হন।
ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু অধিনায়ক প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে একদমই সময় নেননি আরসিবির বোলাররা। ইনিংসের শুরু থেকেই বেঙ্গালুরুর পেস আক্রমণের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে দিল্লির ব্যাটিং লাইনআপ। জশ হ্যাজলউড ও ভুবনেশ্বর কুমারের সুইং আর গতির মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দিল্লি।
দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন অভিষেক পোরেল (৩৩ বল)। এছাড়া জ্যাকব বেথেল ১১ বলে ২০ এবং ডেভিড মিলার ১৮ বলে ১৯ রান করলেও বাকি ব্যাটাররা ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। দিল্লির সাতজন ব্যাটারই দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে মাত্র ১৬.৩ ওভারে ৭৫ রানেই গুটিয়ে যায় দিল্লির ইনিংস। বেঙ্গালুরুর হয়ে জশ হ্যাজলউড ৩.৩ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৪টি এবং ভুবনেশ্বর কুমার ৩ ওভারে মাত্র ৫ রান খরচায় ৩টি উইকেট শিকার করেন।
৭৬ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে। দিল্লির বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়েই ওপেনিং জুটিতে দ্রুত রান তুলতে থাকেন বিরাট কোহলি ও দেবদত্ত পাডিক্কাল। যদিও জ্যাকব বেথেল বল হাতে কাইল জেমিসনকে ফিরিয়ে একটি ব্রেক-থ্রু এনে দিয়েছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বেঙ্গালুরুর হাতে চলে যায়।
দেবদত্ত পাডিক্কাল মাত্র ১৩ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে বিধ্বংসী ৩৪* রান করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন কিংবদন্তি বিরাট কোহলি, যিনি ১৫ বলে ২৩* রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬.৩ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৭৭ রান তুলে নিয়ে বিশাল জয় নিশ্চিত করে আরসিবি। এই জয়ের ফলে বেঙ্গালুরু পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল।
ম্যাচ শেষে জশ হ্যাজলউডের বোলিং বিশ্লেষণ (৩.৩-০-১২-৪) ছিল টক অফ দ্য টাউন। মাত্র ৭৫ রানে দিল্লিকে অলআউট করা এবং ৮১ বল হাতে রেখে জয় পাওয়া আরসিবির জন্য চলতি মৌসুমের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে এমন শোচনীয় পরাজয় দিল্লির প্লে-অফ দৌড়কে অনেকটাই কঠিন করে তুলল। বেঙ্গালুরুর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ব্যাটারদের আগ্রাসী মেজাজই আজ ম্যাচের মূল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
