মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Logo
×

ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণিত, তবুও চাকরিতে বহাল শিক্ষক

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রমাণ মিলেছে। তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেরও নাগরিক। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের তদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরপরও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিরুদ্ধে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, অভিযুক্ত দীপক চন্দ্রের বিষয়ে জানতে ভারতীয় হাইকমিশনে পত্র পাঠাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক প্রফেসর মো. সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুনানিতে অভিযুক্ত দীপক চন্দ্র সরকার, অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকারসহ মাউশির বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানি শেষে মাউশি উপপরিচালক (মাধ্যমিক) মো. জাকির হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত শিক্ষক ও অভিযোগকারীর বক্তব্য শুনেছি। প্রত্যেকেই নিজেদের স্বপক্ষে কথা বলেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ভারতীয় নাগরিক কি না তা জানতে ভারতীয় হাইকমিশনে চিঠি দেবো। তাদের উত্তর পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিচালক বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষকের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের তদন্তে প্রমাণিত। তার এমপিও চলমান থাকার সুযোগ নেই। তবে আনুষ্ঠানিকতার জন্য মাউশি ভারতীয় হাইকমিশনে পত্র পাঠাবে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিত্বসহ প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ আনেন স্থানীয় প্রকাশ চন্দ্র সরকার। অভিযোগ আমলে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণ মিলেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারীক কর্তৃক প্রকাশিত ভোটার তালিকার সূত্র উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সরকারি অর্থায়ন হওয়ায় বিদেশি নাগরিক এমপিওভুক্ত পদে বহাল থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত বিষয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মাউশি কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে পাঠানো এ পত্রে বলা হয়, পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব আছে। বিষয়টি গুরুতর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

এরপর অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকার ও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারকে শুনানিতে ডাকে মাউশি অধিদপ্তর।

সোমবার বিকেলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের কক্ষে এ শুনানি হয়।

শুনানি শেষে অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র ভারতের নাগরিক ও ভোটার। বিদ্যালয়ে দেদার নিয়োগে বাণিজ্য করেছেন তিনি। নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা ভারতে পাচার করে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বড়শুল এলাকায় তিনি অট্টালিকা তৈরি করেছেন।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বাঁচাতে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এ শিক্ষকের অবিলম্বে এমপিও বাতিলের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমি ভারতের নাগরিক নই। জাল-জালিয়াতি করে আমাকে নিয়ে অভিযোগকারী বিভিন্ন ডকুমেন্ট তৈরি করেছেন।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের তদন্তে ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণিত হওয়া প্রসঙ্গে দীপক চন্দ্র বলেন, ‘এ তদন্ত প্রতিবেদন সঠিক হয়নি।’

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...