বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Logo
×

নব্বই দশকের নস্টালজিয়ায় ভাসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বাংলাদেশেও তুমুল সাড়া

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

অনলাইন দুনিয়ায় এখন তুমুল আলোচনায় নব্বই দশকের দিনগুলোয় ফিরে যাওয়ার একটি নতুন প্রবণতা। ‘নব্বই দশকে তোমাকে কেমন দেখাত’—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রবণতাটি বিদেশে কিছুদিন আগে শুরু হলেও, বাংলাদেশে গতকাল থেকেই এর ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। শিল্পী, শিক্ষক, তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থী—সবাই মেতে উঠেছেন এতে। কারও পোস্টে জায়গা পাচ্ছে সত্যিকারের পুরোনো ছবি, আবার কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বানিয়ে ফেলছেন নব্বইয়ের আমেজে একেবারে নতুন ছবি।

এই প্রবণতার একটি সাধারণ কাঠামো লক্ষ করা যাচ্ছে—কয়েকটি ফেলে আসা দিনের ছবি জোড়া দিয়ে বানানো হচ্ছে ছোট্ট এক স্লাইডশো, আর তার পটভূমিতে বাজছে গু গু ডলস ব্যান্ডের ১৯৯৮ সালের বিখ্যাত গান ‘আইরিস’। একই আঙ্গিকে ইনস্টাগ্রাম আর টিকটকে নিজেদের হারানো সময়ের গল্প বলছেন তারকা থেকে সাধারণ মানুষ, সবাই। এই প্রবণতার মূল টান আসলে স্মৃতিকাতরতায়—সেকালের পোশাকের ধরন, চুলের বাহারি স্টাইল, জীবনযাপনের চেনা ছাপ যেন আবার জীবন্ত হয়ে ফুটে ওঠে পুরোনো ছবিগুলোতে। স্মার্টফোন কিংবা সামাজিক মাধ্যমের জন্ম হওয়ার আগের সেই একটা আলাদা সময়ের গন্ধ ফিরিয়ে আনছে এসব পোস্ট।

বিদেশের সংগীত, সিনেমা ও টেলিভিশন জগতের বহু চেনা মুখও শামিল হয়েছেন এই প্রবণতায়। রেবা ম্যাকএন্টায়ার, ড্যারিয়াস রাকার, ড্রু ব্যারিমোর, স্কট উলফ, ব্রুক শিল্ডস, জো মানতেগনা কিংবা কেভিন বেকনের মতো তারকারাও তুলে ধরেছেন নিজেদের নব্বই দশকের ছবি। সিটকম-দর্শকদের কাছেও বিষয়টি বাড়তি আকর্ষণের—‘হোম ইমপ্রুভমেন্ট’ ও ‘বয় মিটস ওয়ার্ল্ড’ ধারাবাহিকের মুখ মার্লা সোকোলফ এবং ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’ খ্যাত ক্রিস্টিন ডেভিসও এতে যোগ দিয়েছেন।

সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনাটি অবশ্য জড়িয়ে ‘বেভারলি হিলস, ৯০২১০’ ধারাবাহিকের অভিনেতা ব্রায়ান অস্টিন গ্রিনকে ঘিরে। তিনি নিজে এই প্রবণতায় অংশ না নেওয়ায়, তাঁর স্ত্রী শার্না বার্গেস নিজেই তাঁর হয়ে একটি স্লাইডশো বানিয়ে পোস্ট করেন। ইনস্টাগ্রামের ক্যাপশনে বার্গেস লেখেন, স্বামী নিজে কখনোই এই কাজে বসতেন না বলে তিনি খুশি মনেই এটি সেরে দিয়েছেন।

এ ছাড়া ‘সেভড বাই দ্য বেল’ ও ‘বেভারলি হিলস, ৯০২১০’ খ্যাত টিফানি থিসেনও পুরোনো ছবি দিয়ে যুক্ত হন এই প্রবণতায়, যা সেকালের পরিচিত চরিত্রগুলোর সঙ্গে বেড়ে ওঠা দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে আবেগঘন হয়ে ওঠে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে নিজের নব্বই দশকের ছবি প্রকাশ করে পুরোনো স্মৃতিতে ডুবে যাওয়ার অনুভূতি জানিয়েছিলেন ড্রু ব্যারিমোরও।

তারকাদের হাত ধরে শুরু হলেও এখন সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এই প্রবণতা। বাংলাদেশেও গতকাল থেকে এর জনপ্রিয়তা স্পষ্ট, অনেকেই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নব্বই দশকের পোশাক, চারপাশের পরিবেশ ও ফ্যাশনের ছাঁচে নিজেদের ছবি তৈরি করছেন।

নিজের একটি ছবি কাজে লাগিয়ে এমন ছবি বানাতে চাইলে চ্যাটজিপিটি, জেমিনি বা যেকোনো এআই অ্যাপে উপযুক্ত নির্দেশনা প্রয়োগ করলেই মিলতে পারে ঘন চুলের ধাঁচ, ডেনিমের সাজ, পুরোনো দিনের ফটোস্টুডিওর আবহ কিংবা নব্বইয়ের ঘরোয়া বসার ঘরের ছোঁয়ায় তৈরি ছবি—নিজস্ব ছবি যুক্ত করে প্রয়োজনমতো এসব নির্দেশনা ব্যবহার করা যাচ্ছে সহজেই।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...