ইরানে ইসরাইল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পাঁচ দিন পার হলেও, এই অভিযান শুরুর মূল উদ্দেশ্য এবং এর কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট নয় বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তব্যে লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই ছিল হামলার প্রধান উদ্দেশ্য। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার।
তবে পরবর্তী সময় প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে লক্ষ্যবস্তুর পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। তিনি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, নৌসামরিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব কমানোর কথাও উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে এই অভিযানের বৃহত্তর উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।
কিন্তু হামলার পর ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো বা এই অভিযানের মাধ্যমে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে হুমকি কমবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা প্রকাশ পায়নি। বরং এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন, যা পূর্ববর্তী ঘোষণার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই হামলার উদ্দেশ্য শাসনব্যবস্থা উৎখাত নয়। যদিও তিনি স্বীকার করেন, সামরিক অভিযানের প্রভাবে দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। তার ভাষায়, এটি কোনো “রেজিম চেঞ্জ” যুদ্ধ নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আবার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, ইসরাইল ইরানে হামলার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারত। সেই প্রেক্ষাপটে আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসেও এ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকানদের অনেকেই প্রশাসনের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিলেও ডেমোক্র্যাটরা স্পষ্ট কৌশল ও গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ না করার অভিযোগ তুলেছেন। হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির র্যাঙ্কিং ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে প্রশাসন এখনো পর্যাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত লক্ষ্য, কৌশল ও রাজনৈতিক বার্তায় এই অসামঞ্জস্য ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
