বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

আকরাম খানের অধিনায়কত্বে আইসিসি ট্রফি জয় ও পরিসংখ্যান

জুবায়ের আহমেদ ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক ও তারকা ক্রিকেটার আকরাম খান। শৈশবে আকরাম খানের নাম অনেক শুনতাম, তৎকালীন ছোট্ট দল বাংলাদেশের একজন পারফর্মার হিসেবেই তার নাম উচ্চারিত হতো। বড় বড় ছয় হাঁকাতেন, এটা নিয়ে আলোচনা হতো ২০০০ এর আগের সময়ে।

বাংলাদেশের হয়ে ৮ টেস্ট ও ৪৪ ওয়ানডে ম্যাচ খেলা আকরাম খান টেস্টে বাংলাদেশকে কখনো নেতৃত্ব না দিলেও ১৯৯৫-১৯৯৮ পর্যন্ত ১৫ ওয়ানডে ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেখানে ১৪ পরাজয়ের বিপরীতে ১ জয় পেয়েছেন। ১৯৯৮ সালে ভারতের হায়দ্রাবাদে কোকাকোলা তিনজাতির সিরিজের ২য় ম্যাচে রফিকের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে কেনিয়াকে হারায় বাংলাদেশ।

সেই ম্যাচে রফিকের ৩ উইকেট, খালেদ মাহমুদ ও এনামুল হক মনির ২টি করে উইকেট শিকারের ফলে কেনিয়াকে ২৩৬ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। জবাবে আতাহার আলীর সাথে ওপেনিং করে রফিক বাজিমাত করেন এবং ৮১ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন। আতাহার ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক আকরাম খান ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন। ৪৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৪৮ রান করে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলেও পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে আকরাম খানের নেতৃত্বে শেষ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। তৎপর ১৯৯৯ সাল শুরু হয় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্ব দিয়ে।

তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশ দল সব বড় দলের বিপক্ষে খেলতো এবং কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ে ছিলো তুলনামূলক ছোট দল, তবে তারাও বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রভাব বিস্তার করতো ভালো ভাবে। এই সময়ে কেনিয়াকে হারানোও গৌরবের ছিলো।

তখন আরো একটি ব্যাপার ঘটতো, বাংলাদেশের সবগুলো ম্যাচ আন্তর্জাতিক মর্যাদার ছিলো না। ফলে জাতীয় দল অনেক ম্যাচ খেলেছে, যেগুলো লিষ্ট এ অথবা আনফিসিয়াল ওয়ানডে হিসেবে ছিলো। যেমন ১৯৯৭ সালে কেনিয়াকে হারিয়ে আইসিসি ট্রফি জেতা বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সহ সেই টুর্নামেন্টের কোন ম্যাচই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছিলো না। সেগুলো আইসিসি ট্রফির ম্যাচ হিসেবে সিরিয়াল করা হতো, যেমন ফাইনাল ম্যাচটি ছিলো আইসিসি ট্রফি নং ৩৪৮।

আকরামকে এই ট্রফি জয়ের অধিনায়ক হিসেবেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে অমরত্ম এনে দিয়েছে। এছাড়া আকরাম খান দেশকে ১৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১ জয় পাওয়া তৎকালীন বিবেচনায় স্বাভাবিকই। ব্যাটার আকরাম খানও সফল ছিলেন। তৎকালীন সময়ে ৪৪ ম্যাচে ৫ ফিফটিতে ৯৭৬ রান সেরা ক্রিকেটের অংশ। ৫ ফিফটি করেছিলেন পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে (২), কেনিয়া ও ভারতের বিপক্ষে। ৫ ফিফটির বিপরীতে আরো ৯টি ৩০ উর্ধ্ব ইনিংস আছে ওয়ানডেতে। ৮ টেস্ট খেলে কোন ফিফটি পাননি। সর্বোচ্চ ৪৪, মোট রান ২৫৯।

আকরাম খান আমাদের ক্রিকেটের প্রথম দিকের হিরো এবং পরবর্তীতে এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের সাথে আছেন। আকরাম খান পরিবারের অপর দুই সদস্য নাফিজ ইকবাল খান ও তামিম ইকবাল খানও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার। তামিম ইকবাল এখন বিসিবির এডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...