অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্রিকেটের যেকোনো সংস্করণে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের জন্য এতদিন ছিল এক অধরা স্বপ্ন। অবশেষে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ধরা দিল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে (ডিএলএস পদ্ধতিতে) হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটিই বাংলাদেশের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়।
রেকর্ড ভাঙা বোলিং বিপর্যয়:
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বাংলাদেশি পেসারদের তোপের মুখে পড়ে শুরুতেই খড়কুটোর মতো উড়ে যায় তাদের টপ অর্ডার। দলীয় ০ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক সূচনার রেকর্ড গড়ে সফরকারীরা। মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের গতি আর সুইংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি অজি ব্যাটাররা।
মার্নাস লাবুশেন (৫৫) এবং জশ ইংলিশ (৩৪) কিছুটা প্রতিরোধ না গড়লে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আরও লজ্জাজনক হতে পারত। নির্ধারিত ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানে থামে তাদের ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে মুস্তাফিজুর রহমান মাত্র ২৭ রানে ৩টি এবং তাসকিন আহমেদ ৩৩ রানে ৩টি উইকেট নেন। দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন মুস্তাফিজ।
শান্ত-সৌম্যর ব্যাটে জয়ের ভিত্তি:
বৃষ্টির কারণে লক্ষ্য পুনর্নির্ধারণ করা হলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে আউট হলে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় উইকেটে সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৭১ রানের জুটি সেই চাপ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয়। সৌম্য ৪২ এবং শান্ত ৪১ রান করে জয়ের পথ সহজ করে দেন।
মিরাজের ছক্কায় ইতিহাস ছোঁয়া:
মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল ৪০ রানের ইনিংস জয়ের সুবাস আরও ছড়িয়ে দেয়। শেষ দিকে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রাইলি মেরিডিথের বলে দুর্দান্ত এক ছক্কা হাঁকিয়ে ৩৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ৩৬ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের এক স্মরণীয় জয় ও সিরিজ নিশ্চিত উল্লাসে মাতে পুরো স্টেডিয়াম।
টাইগারদের এই অবিস্মরণীয় জয় দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করল।
