শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
Logo
×

রাসুল (সা.) কি কোরআনের হাফেজ ছিলেন?

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা.)-ই পৃথিবীতে কোরআনের প্রথম হাফেজ ছিলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি কোরআনের যতটুকু অবতীর্ণ করতেন তিনি সঙ্গে সঙ্গে তা মুখস্থ করে নিতেন। এভাবে তিনি দীর্ঘ ২৩ বছরে ধীরে ধীরে কোরআন হিফজ করেন। মহান আল্লাহ নিজ দায়িত্বে তাঁর প্রিয়নবীকে কোরআন মুখস্ত করান। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘এটা সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কোরো।’ (সুরা কিয়ামা, আয়াত : ১৭-১৮)

আল্লামা কাজি সানাউল্লাহ পানিপথি (রহ.) আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, ‘কোরআন আপনার অন্তরে সংরক্ষণ এবং তা বিশুদ্ধভাবে পাঠ করানো আমার দায়িত্ব। আমি যখন জিবরাইলের মাধ্যমে কোরআন পাঠ করিয়ে শুনাই, তখন আপনি তার পাঠ অনুসরণ করে পাঠ করুন। যেন তা আপনার মন-মস্তিষ্কে সুদৃঢ়ভাবে বসে যায়।’ (তাফসিরে মাজহারি : ১০/৩৯)

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) লেখেন, ইসলামের সূচনালগ্নে কোরআন সংরক্ষণের জন্য মুখস্ত করার ওপর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। তাই ওহি নাজিলের প্রথম দিনগুলোতে ওহি নাজিলের সঙ্গে সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্রুততার সঙ্গে বার বার তা পাঠ করতে থাকতেন। আল্লাহ সুরা কিয়ামার আয়াতে নবীজি (সা.)-কে এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, আপনার এভাবে দ্রততার সঙ্গে পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। আল্লাহ আপনার ভেতর এমন স্মৃতিশক্তি দান করেছেন একবার ওহি নাজিল হলে আপনি তা ভুলে যাবেন না, সঙ্গে সঙ্গে তা আপনার মুখস্ত হয়ে যাবে। এজন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-ই সবচেয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে কোরআন মুখস্ত করেছিলেন। তিনি এমন মজবুত হাফেজে কোরআন ছিলেন যে, তাতে নূন্যতম ভুল-ত্রুটি ও পরিবর্তন আসারও সম্ভাবনা ছিল না।

আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে সুনিশ্চিত মুখস্ত শক্তি দান করেছিলেন। তারপরও উম্মতকে সতর্কতা শেখানোর জন্য তিনি প্রতি রমজানে জিবরাইল (আ.)-কে কোরআন পাঠ করে শোনাতেন। এমনকি ইন্তেকালের বছর রমজানে তিনি জিবরাইল (আ.)-কে দুইবার কোরআন পাঠ করে শোনান। (মাআরেফুল কোরআন : ১/৩৫; ফাতহুল বারি : ৯/৩৬)

আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...