শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
Logo
×

উদ্বোধনের আগেই ভালুকা মডেল মসজিদের দেয়ালে ফাটল,

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

ময়মনসিংহের ভালুকায় ১৩ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভবনে উদ্বোধনের আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনের ভেতর ও বাইরের দেয়ালে ছোট-বড় অসংখ্য ফাটল দেখা যাওয়ায় স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ভবনটি হস্তান্তরের উদ্যোগ স্থগিত করেছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্মাণকাজে যথাযথ তদারকির অভাবের কারণে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালের শেষ দিকে ভালুকা পৌর সদরের বড় মসজিদের দক্ষিণ পাশে মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। শুরুতে কাজের দায়িত্ব পায় ময়মনসিংহের এস আলম এন্টারপ্রাইজ। পাইলিংয়ের কাজ শেষে গ্রাউন্ড ফ্লোর নির্মাণের সময় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী শামসুল আলম মারা গেলে পরবর্তীতে অবশিষ্ট কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় নাঈমা এন্টারপ্রাইজকে। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ টাকা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভবনের ফাটা অংশগুলো মেরামতের কাজ করছেন কয়েকজন রাজমিস্ত্রি। ভবনের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের দেয়ালে তুলনামূলক বেশি ফাটল দেখা গেছে। পশ্চিম পাশের বাইরের দেয়ালে চারজন শ্রমিককে মেরামতকাজ করতে দেখা যায়।

কাজে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রি হাদিস বলেন, ‘গত ১৩ দিন ধরে আমরা চারজন ফাটল মেরামতের কাজ করছি। ভবনের নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত প্রায় সব দেয়ালেই ছোট-বড় ফাটল ছিল। আগে ভেতরের অংশের ফাটল বন্ধ করেছি, এখন বাইরের অংশে কাজ করছি। ব্লক বসানোর পর পর্যাপ্ত পানি না দেওয়ার কারণেই এসব ফাটল দেখা দিয়েছে বলে আমার মনে হয়।’

স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের কারণেই ভবনের বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্মাণকাজে মান বজায় রাখা হয়নি। ফলে ভবনটি হস্তান্তরের আগেই নানা ত্রুটি প্রকাশ পেয়েছে। তবে ঠিকাদার ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন গণপূর্ত বিভাগের ময়মনসিংহ কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহমিদ ইফতেখার আলী।

জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস আগে মডেল মসজিদটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ভবনের বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে স্থানীয় মুসল্লিদের মৌখিক অভিযোগ থাকায় সেটি গ্রহণ করেনি উপজেলা প্রশাসন।

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় মসজিদটি হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি যাচাই করতে উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি হস্তান্তর-পূর্ব যাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপার ভাইজারকে সদস্য সচিব এবং ভালুকা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাইন উদ্দিনসহ মোট সাত সদস্যের হস্তান্তর প্রাক যাচাই কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

হস্তান্তর-পূর্ব যাচাই কমিটির প্রধান ও উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘কমিটির সদস্যদের নিয়ে পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটলসহ কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। ঠিকাদারকে সেগুলো মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেরামত শেষে পুনরায় সরেজমিনে যাচাই করে ত্রুটিমুক্ত পাওয়া গেলে প্রতিবেদন ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হবে।’

ফাটলের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাঈমা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারীর মুঠোফোন নম্বরে গত দুই দিনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহমিদ ইফতেখার আলী বলেন, ‘ভালুকা মডেল মসজিদটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু ত্রুটি থাকায় ঠিকাদারকে সেগুলো সংশোধন করতে বলা হয়েছে। ত্রুটিমুক্ত হওয়ার পরই ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...