বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশান-২ চত্বরে শব্দদূষণ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং গুলশান সোসাইটি যৌথভাবে অংশগ্রহণ করে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, স্থানীয় সোসাইটির প্রতিনিধি এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শব্দদূষণ বর্তমানে নগর জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি। তিনি বলেন, শব্দদূষণ কেবল পরিবেশগত ক্ষতির কারণ নয়, এটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি। তাই এ বিষয়ে সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ভবিষ্যতেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২০ সাল থেকে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশকে ক্ষমতা প্রদানের পর থেকে রাজধানীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, ঘোষিত নীরব এলাকা হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় শব্দদূষণের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং সেখানে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা বলেন, শব্দদূষণ বর্তমানে নগর জীবনের একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তারা পরিবেশ রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান এবং শব্দদূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগরের পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমদ, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, এবং পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েস ও গ্রিন সেভার্সের প্রতিনিধিরা।
সমাবেশে পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, ডিএনসিসি ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।
