নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সোমবার (৪ মে) দুপুরে তীব্র উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।
বিক্ষোভ চলাকালে একটি অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। অজ্ঞাত দিক থেকে ছোড়া একটি ইটের আঘাতে আরিফ নামের এক পথচারী গুরুতর আহত হন।
তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের আবু সাইদের ছেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন রকি, সহসভাপতি শাহেদ চৌধুরী বাবু, পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. ওয়াসিম এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনসহ আরও অনেকে।
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা অবিলম্বে ঘোষিত কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
বিক্ষোভ শেষে নেতাকর্মীরা নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং নবগঠিত জেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। এ সময় শাহেদ চৌধুরী, আকবর হোসেন ও মো. ওয়াসিমসহ নবগঠিত কমিটির বিভিন্ন পদে থাকা ১০ জন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা কিছু সময় সড়কে অবস্থান করে বিক্ষোভ করলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
আহত ব্যক্তিকে কে বা কারা ইট মেরেছে তা এখনো জানা যায়নি এবং এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও দায়ের করেননি। বিক্ষোভ চলাকালে দুজনকে আটক করা হলেও তারা এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, কেবল নোয়াখালী নয়, সারা দেশেই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। রাঙামাটিসহ বিভিন্ন জেলায় একইভাবে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন।
পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
