বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Logo
×

জামায়াত নেতার দখল করা মন্দিরের জমি উদ্ধারে সংবাদ সম্মেলন

Icon প্রথম সমাচার ডেস্ক

পিরোজপুরের নেছারাবাদে মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগে স্থানীয় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে মন্দির কমিটি ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সমুদয়কাঠি বাজারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে জমি উদ্ধারে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনি ব্যবস্থা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মন্দির কমিটির সভাপতি ও জমির শরিকদের পক্ষে মনোজ বিশ্বাস।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সমুদয়কাঠি দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্রীশ্রী শীতলা মায়ের মন্দিরের ব্যবহার ও ধর্মীয় উৎসবের জন্য ১৯৬২ সালে ৪২ শতাংশ জমি দান করা হয়। দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে জমিটি মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরকারি সর্বশেষ বিএস ১৩০ নম্বর খতিয়ানের ৯৫২ নম্বর দাগে জমিটি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালে স্থানীয় সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদার নেছারাবাদ সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করেন। মামলার আরজিতে সর্বশেষ বিএস খতিয়ানের তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে মন্দির কমিটির দাবি। ১৯৯৯ সালের ২৪ মার্চ শফিকুল ও তার ভাই সিদ্দিকুর রহমান দলিলের মাধ্যমে জমি কিনলেও ওই দলিলগুলোর সীমানা বা দাগে মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমির কোনো উল্লেখ ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় একতরফা ডিক্রি নেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত মালিক ও মন্দির কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে মামলা পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আদালতের নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।

মন্দির কমিটির অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শফিকুল ইসলাম জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধান চাষ শুরু করেন। তার নামজারি রেকর্ডে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ থাকলেও তিনি পুরো ৪২ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করছেন। চলতি বছর পুনরায় জমিতে চাষাবাদের চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা বাধা দেন এবং জমিটি শীতলা মায়ের মন্দিরের ভূমি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন।

এছাড়া প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক টুটুল আইচ, সমুদয়কাঠি রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক শেখর বাড়ৈ, সমাজসেবক মুজিবুর রহমান, কৃষিবিদ বরুণ কর, জাকির হোসেন খান, সুমন খান ও মরিয়ম বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এর আগে স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ জানিয়েছিলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ওই জমিতে শীতলা পূজা হতে দেখে আসছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. আবু হানিফ এর আগে জানিয়েছিলেন, শফিকুল ইউনিয়ন জামায়াতের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হলেও এই জমির বিষয়টি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ জমি দখল করলে দল তার দায় নেবে না।

আরও খবর লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

« বিস্তারিত কমেন্টে »
prothomsomachar.com