মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে দেশের শিল্প খাতের পুনর্জাগরণ এবং তৃণমূলের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ ১লা মে ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বিএনপি কার্সযালয়ের নয়াপল্টনের মে দিবসের সমাবেশে তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে এবং হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বন্ধ হয়ে যাওয়া সকল কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।
তিনি বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি আয় বাড়ানোই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় দেশের শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে, কারণ এর ফলে বিপুল সংখ্যক বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন যে, পুনরায় চালু হওয়া এই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে।
শিল্প খাতের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে তৃণমূল থেকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি ঘোষণা করেন যে, গ্রামীণ জনপদের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তানদের মধ্য থেকে মেধাবী খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে সরকার বিশেষ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির আয়োজন করছে।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, অর্থের অভাবে যাতে কোনো সুপ্ত প্রতিভা অকালে ঝরে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় দক্ষ কিশোর-কিশোরীদের বাছাই করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী উন্নত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, গ্রামের এই ‘নতুন কুঁড়ি’রাই একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সম্মান বয়ে নিয়ে আসবে।
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশ গড়ার কাজে শ্রমিক শ্রেণী ও তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শিল্প ও ক্রীড়া—এই দুই ক্ষেত্রে সরকারের এই সম্মিলিত উদ্যোগ বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও শক্তিশালী জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
