আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিতে দেশ ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দল এবং ইতিমধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পৌঁছেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই যাত্রার দুটি ভিন্ন ভিডিও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যেখানে দেখা গেছে ব্রাজিল দলের বহনকারী বিমানটিকে জলকামান দিয়ে পানি ছিটিয়ে গোসল করানো হচ্ছে। একটি ভিডিও করা হয়েছে ব্রাজিলের মাটিতে দেশ ছাড়ার আগে এবং অন্যটি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর।
বিমান চালনা বা এভিয়েশনের ভাষায় বিমানকে এভাবে জলকামান দিয়ে ভেজানোকে বলা হয় ‘ওয়াটার স্যালুট’। সাধারণত কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইটের আগে, নতুন কোনো বিমানের প্রথম উড্ডয়নকে স্মরণীয় করে রাখতে কিংবা কোনো সম্মানিত প্রতিনিধিদলকে স্বাগত বা বিদায় জানাতে বিমানবন্দরের কর্মীরা এই প্রথা পালন করেন।
ব্রাজিল দলের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনে রিও ডি জেনিরোর গ্যালিয়াও বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের আগমুহূর্তে বিমানটিকে ওয়াটার স্যালুট দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দলটি যখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির নিওয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, সেখানেও একইভাবে দুই প্রান্ত থেকে পানির ফোয়ারা ছুটিয়ে বিমানটিকে সম্মান জানানো হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) কাছ থেকে এর আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিয়ে রেখেছিল।
এভিয়েশন এবং ক্রীড়াঙ্গনে ধারণা করা হয়, জলকামানের এই পানির মাধ্যমে বিমানের যাত্রায় এবং দলের ওপর একধরনের বিশেষ আশীর্বাদ ও শুভকামনা বর্ষণ করা হয়, যা দলের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে। ২৪ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে এবার কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মিশন শুরু করতে যাচ্ছে সেলেসাওরা। তাই ভাগ্যকে নিজেদের পক্ষে টানতে এবং প্রতিটি পদক্ষেপ নিখুঁত রাখতে এই ঐতিহ্যবাহী আচারের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল দলকে বহনকারী বোয়িং ৭৬৭-৩০০ ইআর মডেলের এই বিমানটি সাধারণ কোনো বিমান নয়। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২২ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা)। ২০২২ সালে বিখ্যাত রক ব্যান্ড ‘রোলিং স্টোন্স’ তাদের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সফরে এই বিমানটি ব্যবহার করেছিল।
নিউ জার্সি থেকেই মূলত বিশ্বকাপের চূড়ান্ত অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল দল।
-
আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ক্লিভল্যান্ডে বিশ্বকাপের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে তারা মিসরের মুখোমুখি হবে (এর আগের প্রীতি ম্যাচে তারা পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়েছে)।
-
বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি।
-
আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে নেইমার-বারবোসারা।
