আগামী ১১ জুন থেকে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসতে যাওয়া ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা তৈরি করেছে। তবে এবারের আসরটি মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো একক আসরে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী রেকর্ডসংখ্যক ৮ জন ফুটবলার অংশ নিচ্ছেন।
মাঠ মাতাবেন ফুটবল ইতিহাসের প্রবীণ তারকারা
তারুণ্যের গতি আর শক্তির এই খেলায় বয়সকে স্রেফ একটি সংখ্যা প্রমাণ করে ফুটবল বিশ্বকে এখনো মোহিত করে রেখেছেন একঝাঁক কিংবদন্তি। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া সেই ৮ জন ‘প্রবীণ’ ফুটবলার হলেন:
১. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল) ২. লুকা মদরিচ (ক্রোয়েশিয়া) ৩. ম্যানুয়েল নয়ার (জার্মানি) ৪. গিয়ের্মো ওচোয়া (মেক্সিকো) ৫. এডিন জেকো (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা) ৬. ক্রেগ গর্ডন (স্কটল্যান্ড) ৭. জোসিমার দিয়াজ ৮. ফার্নান্দো মুসলেরা (উরুগুয়ে)
গোলরক্ষকদের জয়জয়কার
বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবল মাঠে outfield বা মাঠের খেলোয়াড়দের তুলনায় গোলরক্ষকদের ক্যারিয়ার দীর্ঘ হওয়াটা স্বাভাবিক। এবারের তালিকাতেও তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে। এই ৮ জন ফুটবলারের মধ্যে ৫ জনই হলেন গোলরক্ষক (গর্ডন, ওচোয়া, নয়ার, দিয়াজ ও মুসলেরা)। বাকি তিনজনের মধ্যে রোনালদো ও জেকো ফরোয়ার্ড এবং মদরিচ খেলেন মিডফিল্ডে।
সবচেয়ে প্রবীণ ও প্রথম বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ বা প্রবীণ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামবেন স্কটল্যান্ডের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ক্রেগ গর্ডন। তবে এই তালিকার সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি হলো—ক্রেগ গর্ডন এবং জোসিমার দিয়াজ, এই দুই গোলরক্ষক তাঁদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অবসান ঘটিয়ে জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন এবার।
তারুণ্যের উদ্দামতার পাশাপাশি এই অভিজ্ঞ ‘বুড়োদের’ ফুটবল মস্তিষ্ক ও মায়াবী জাদু দেখার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছেন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।
