শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

শেখ হাসিনাকে ভারত ‘না পারছে গিলতে, না পারছে ওগরাতে’

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন

২০২৪ সালের অগাস্টে ঢাকায় শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও তার দেশ ছাড়ার ঠিক দিন পনেরো আগের একটি ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত কোটা পদ্ধতি বাতিল করার ঠিক পরদিন দিল্লিতে প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র সম্পাদকীয়র শিরোনাম ছিল ‘ডিসটার্বিং ইন ঢাকা’।

ওই সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিল, “কোটা বিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে যে সহিংসতা দেখা যাচ্ছে, তা আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী রাজনীতিরই উপসর্গ। ভারতের এখন সময় এসেছে হাসিনার পর কী, তা নিয়ে ভাবার!”

বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে ভারতের বাংলাদেশ নীতি আর শেখ হাসিনা যেভাবে সমার্থক হয়ে উঠেছিল, তাতে দিল্লির একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ভারতকে ‘বিয়ন্ড হাসিনা’ ভাববার পরামর্শ দিচ্ছে – সেটা তখন প্রায় অকল্পনীয় ছিল। কিন্তু আজ ২০২৬ সালে এসে এটিই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে ভারত কী কৌশল নিয়ে এগোবে – দিল্লি গত প্রায় দুই বছর ধরে সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ারই চেষ্টা করে যাচ্ছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার সেই সম্পাদকীয়র ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করতেই বাংলাদেশের সমাজের প্রতিটি শ্রেণির কাছে ভারতের পৌঁছানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

হাসিনা আমলের দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ ছিল, তারা শুধু ‘আওয়ামী প্রিজম’ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখে। তবে গত প্রায় দুই বছরে সেই নীতির বাধ্য হয়েই পরিবর্তন ঘটাতে হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্বের সুযোগ নিয়ে ভারত এখন ‘জামায়াত-মুক্ত’ বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার পথ খুঁজছে। ২০২৪ সালে দেশে ফেরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের মতো নেতারা এই সেতুবন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। ভারত এখন অনুধাবন করছে যে, আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ এবং একটি সুষ্ঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহই দীর্ঘমেয়াদে ভারতের জন্য নিরাপদ।

শেখ হাসিনা ইস্যু এবং ভারতের শিক্ষা

গত প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ভারতের মাটিতে অবস্থান করাটা দিল্লির জন্য এখনও এক বড় কূটনৈতিক অস্বস্তি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এটি একটি বড় কাঁটা হলেও, দীর্ঘদিনের মিত্রকে ভারত ছুঁড়ে ফেলতেও পারেনি।

তবে এই পুরো পরিস্থিতি থেকে ভারত একটি বড় কূটনৈতিক শিক্ষা পেয়েছে। ভারতের সাবেক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিবিদ ড. মোহন কুমারের মতে, “আমাদের নেইবারহুড ফার্স্ট পলিসি-র একটা বড় ত্রুটি ছিল, প্রতিবেশী দেশগুলোতে আমরা রাজনৈতিক বিনিয়োগ করেছি কোনো একজন ব্যক্তির ওপর, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করিনি!”

২০২৬ সালে এসে ভারত এই শিক্ষাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। শুধু কোনো ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভর না করে ‘কাঠামোগত’ বা স্ট্রাকচারাল ফ্যাক্টরে বিনিয়োগ করার দিকেই এখন ভারতের নীতি নির্ধারকরা জোর দিচ্ছেন, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বড় কোনো সংকটের মুখে না পড়ে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...