সরকারের নীতিনির্ধারক, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতি বছর এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে মন্ত্রী ও সচিবদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সংক্রান্ত বিষয়ে ডিসিদের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এবারের সম্মেলনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর বিএনপি সরকার গঠনের এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন।
৩ থেকে ৬ মে চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দিন সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনের উদ্বোধন করেন এবং দুপুরে তাঁর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে মোট ৩৪টি কার্য-অধিবেশনে ৫৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কার্যালয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রস্তাবের বিষয়ে বলা হয়, আটজন বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিদের কাছ থেকে মোট ১,৭২৯টি প্রস্তাব জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৯৮টি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেগুলো নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কওমি মাদরাসাকে নীতিমালার আওতায় আনা, প্রতিটি চা বাগানে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে জিপি ও এজিপি নিয়োগ, জেলা পর্যায়ে ফ্যাক্ট চেকিং সেন্টার স্থাপন এবং সরকারি মাধ্যমে হজযাত্রী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো।
দিনওয়ারি কার্যক্রমের দিক থেকে তৃতীয় দিনে (৫ মে) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই দিনে সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ডিসিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনার কথা রয়েছে।
চতুর্থ ও শেষ দিন ৬ মে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে আলোচনা হবে। এবার বিশেষভাবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান এবং স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও ডিসিরা সাক্ষাৎ করবেন।
আগের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সম্মেলনে নেওয়া স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্তের ৬১ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। মধ্যমেয়াদি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৩৫ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তা মাত্র ১৬ শতাংশ।
এই সম্মেলনকে সামগ্রিকভাবে মাঠ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
