মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
Logo
×

সরকার সব দিক থেকেই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে : আখতার হোসেন

Icon প্রথম সমাচার ডেস্ক

বর্তমান সরকার সব দিক থেকেই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, এই সরকার জনগণের কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। কিন্তু সরকার এখনো পর্যন্ত এসবের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নজিরবিহীন দলীয়করণের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার হোসেন বলেন, আমরা যদি বলতে যাই যে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হয়েছে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। জনগণ ভোগান্তিতে পড়েছে, জিনিসপত্রের দাম বাড়তি, বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি, ছিনতাইয়ে মানুষের অবস্থা নাভিশ্বাস তৈরি হওয়ার মতো। ঠিক সেই সময় যাতে রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে আপনারা ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আবার যখন আমরা রাষ্ট্র কাঠামোতে গণতান্ত্রিক উপাদানগুলো বিলুপ্ত করে নানা অজুহাতে আপনারা স্বৈরাচারী সিস্টেম চালু করতে চান, সেটা নিয়ে যখন আমরা কথা বলি, তখন জনগণের জীবনে যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, সেই কথাগুলো আড়ালে চলে যায়।

তিনি বলেন, একদিকে সরকার জনজীবনে একটা ভোগান্তি তৈরি করেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্র কাঠামোকে স্বৈরাচারী করার একটা ষড়যন্ত্রে তারা লিপ্ত হয়েছে। আমরা কয় দিকে কথা বলবো?

সাথী আক্তারের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, একজন নারী ভোটার, এই বাংলাদেশের নাগরিক, তিনি যখন আফসোস করে বলছেন, তার দোকানে চুরি হওয়ার কারণে যে বিএনপিকে ভোট দিলাম আর আমার দোকানে হয় চুরি। তিনি যখন এই আফসোসটা করছেন, সেই বক্তব্যের মধ্যে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য না থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা অনতিবিলম্বে সাথী আক্তারের মুক্তি চাই। তার মামলা প্রত্যাহার করে রাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই দাবি আমরা আজকের এই জনসমাবেশ থেকে আপনাদের কাছে উত্থাপন করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন জাপান সফরে আছেন। সেই জাপান সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের কিছু চুক্তি হবে। কিছু এমওইউ স্বাক্ষর হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। গুঞ্জন আছে, জাপানের সঙ্গে চুক্তির নামে বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষে গিয়ে ভারতকে স্বার্থ দেওয়ার এক ধরনের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় আসার আগেই ভারতের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এসেছে। বাংলাদেশের মাতারবাড়ী পোর্টকে দক্ষিণ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যে শহরগুলো আছে, রাজ্যগুলো আছে, তার সঙ্গে কানেক্টেড করে এক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

আখতার হোসেন আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলি, আপনারা এখন দিল্লিতে যেতে পারবেন না। সে কারণে ঘুরিয়ে জাপানের মাধ্যমে দিল্লিকে সুবিধা দেবেন। বাংলাদেশের মানুষেরা কিন্তু এই চালাকিগুলো বুঝতে পারে।

বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ভারতকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থকে বিক্রি করে দিয়ে, বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের কাজে আপনারা লেগে পড়বেন। ভারতের কাছ থেকে আপনারা সমর্থন আদায় করবেন। ভারতের কাছ থেকে ক্ষমতায় টিকে থাকার রসদ করবেন, সেই বৈধতা তাদের কাছ থেকে নিয়ে আসবেন, এটা বাংলাদেশের মানুষেরা আর গ্রহণ করবে না।

তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশে ঘটেছে যে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিল, তারা ভারতের ব্যাকাপে, ভারতের সমর্থন নিয়ে, ভারতের কূটচারে বাংলাদেশের মানুষের ওপর একটা স্বৈরাচার চাপিয়ে দিয়েছিল। এ দেশের মানুষেরা ২৪-এর অভ্যুত্থানে সেই ভারতের হাওয়ায় আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। অতএব সামনে যাতে একই ধরনের পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষেরা সজাগ আছে। আপনাদের সজাগ থাকার আমরা আহ্বান জানাই।

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জনজীবনে যে নাভিশ্বাস তৈরি হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, নানা জায়গায় যে দলীয়করণ চলছে, নজিরবিহীন দলীয়করণ, আপনারা সবাই খেয়াল করে দেখেছেন। বিভিন্ন করপোরেশনে সরকারদলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের মেয়রকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই যে চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে যাকে নিয়ে আসা হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সে মেয়র বৈধ না অবৈধ, সেটা নিয়েই কোশ্চেন। মেয়রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে তাকে আবার প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে। এটা কোন ধরনের বাংলাদেশে দলীয়করণ, কোন ধরনের সমস্ত জায়গায় দখলবাজি, তার একটা নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় দলের লোকদের জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নে বসানো হচ্ছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এসব ব্যক্তিকে দলীয় প্রার্থী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে তারা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে থাকতে পারেন।

আখতার হোসেন বলেন, আমরা স্পষ্ট হয়ে বলতে চাই, যারা সরকারের থেকে বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক হিসেবে বসেছেন, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, এটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি শাসকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার দেয়, সুযোগ করে দেয়, তাহলে সেই নির্বাচন কমিশন কতটুকু স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।

আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ৩০ তারিখে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ঢাকা মহানগর এনসিপির উদ্যোগে একটা বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সেই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আপনারা সবাই অংশগ্রহণ করবেন।

আরও খবর লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

« বিস্তারিত কমেন্টে »
prothomsomachar.com