বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
Logo
×

হজ লাগেজ চুরির অভিযোগে প্রমাণ মেলেনি, বলছে বিমান

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন

 

হজযাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও তদন্তে এ ধরনের ঘটনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, জেদ্দা থেকে ঢাকায় আসা বিশেষ হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০৪-এর যাত্রীদের লাগেজ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। তবে তদন্তে ১৫০ জন যাত্রীর লাগেজ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বিমানের এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ জুন ফ্লাইটটি ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করে। অভিযোগ ওঠার পরপরই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম, সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ওর্ন ক্যামেরার ভিডিও, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট লগবুক পর্যালোচনা করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, বিমানটি দুপুর ২টা ৫২ মিনিটে অবতরণের পর ৩টা ৫ মিনিটে প্রথম ব্যাগেজ যাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। মোট ৮৩৬টি ব্যাগ ৫৯ মিনিটের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুরো ব্যাগেজ খালাস কার্যক্রম বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতিতে এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে।

তবে তদন্তে কয়েকটি ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রায় ২১টি ব্যাগ আগেই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় গ্রহণ করা হয়েছিল বলে ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়। এসব ব্যাগে মূলত জমজমের পানি, খেজুর ও বিভিন্ন টয়লেট্রিজ ছিল।

বিমান জানায়, মাত্র ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী মৌখিকভাবে ব্যাগের ক্ষতি বা ছেঁড়া থাকার কথা জানিয়েছেন। একজন যাত্রী মানিব্যাগ হারানোর কথা বললেও এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। এছাড়া কোনো যাত্রী মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করেননি।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ ডেস্কে প্রপার্টি ইরেগুলারিটি রিপোর্ট (পিআরআর) জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) এবং সৌদি আরবের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিধিমালা অনুযায়ী চেকড ব্যাগেজে জমজমের পানি, সিলবিহীন তরল পদার্থ কিংবা নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। স্ক্রিনিংয়ের সময় এসব নিয়ম লঙ্ঘিত হলে নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাগ খুলে বা কেটে নিষিদ্ধ সামগ্রী জব্দ করা হতে পারে।

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি বলছে, অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় কোনো চুরির ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...