ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলাকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র মো. ফারুক হাসান এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই শরীফ ওমর হাদির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বুধবার (৩ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ফারুক হাসান দাবি করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী হয়েছেন তার বড় ভাই ওমর হাদি। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপরই ওমর হাদি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পোস্টে ফারুক হাসান বলেন, সম্প্রতি ওমর হাদি দাবি করেছেন যে, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিএনপি, অন্তর্বর্তী সরকার এবং জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্টতা থাকে, তাহলে ওই সরকারের অধীনেই কেন তিনি কূটনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। এছাড়া ফারুক হাসানের দাবি, তদন্তের স্বার্থে ওমর হাদিকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা প্রয়োজন। তার মতে, এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ওমর হাদির কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।

এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক দুটি পোস্টে ওমর হাদি অভিযোগ করেন, তার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা, বিএনপি এবং জামায়াতের কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তিনি হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।
জানা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ১২ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরবর্তীতে এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এদিকে চলমান তদন্তের মধ্যেই বিভিন্ন পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
